শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেট, চেসিস নম্বর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ব্যবহৃত নম্বর প্লেটটি ভুয়ো। এ বার সেই নম্বরের আসল যে গাড়ি, তার খোঁজ মিলল শিলিগুড়িতে। খোঁজ মিলেছে গাড়ির মালিকেরও। ইতিমধ্যেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন উইলিয়াম জোসেফ নামে ওই ব্যক্তি।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় সামনে থেকে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে (৪২)। গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা হাসপাতালে ভর্তি। তাঁরও অবস্থা ভালো নয় বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
বুধবার রাতে দোহারিয়ায় চন্দ্রনাথের ফ্ল্যাটে ঢোকার গলির মুখে গুলি করা হয় চন্দ্রকে। একটি ছোট গাড়ি দিয়ে প্রথমে তাঁর গাড়ির রাস্তা আটকানো হয়। তার পরে পর পর গুলি চলে। ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথের বুক। যে গাড়ি এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিল, তারই নম্বর প্লেট ভুয়ো বলে তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তে জানা যায়, শিলিগুড়ির RTO-তে গাড়িটি নথিভুক্ত হয়েছে। মালিকের নামের জায়গায় আছে উইলিয়াম জোসেফের নাম। মাটিগাড়া থানায় ডেকে উইলিয়াম জোসেফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জোসেফ বলেন, ‘রাত ১২টা নাগাদ কলকাতা থেকে আমার কাছে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয়, আমি কোথায় আছি, আমার গাড়ি কোথায়। আমি জানাই শিলিগুড়িতে আছি। তখন বলা হয়, আমার গাড়ির নম্বর ব্যবহার করে একটা মার্ডার হয়েছে। এখনই গাড়ির ছবি, বিস্তারিত পাঠাতে হবে। তা পাঠাই। এর পরেই শিলিগুড়ি কমিশনারেট থেকে ফোন আসে। পুলিশ আমার বাড়িতে এসে আমাকে আর গাড়ি থানায় নিয়ে যায়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেসিস নম্বর খতিয়ে দেখে। পরে ছেড়েও দেয়।’
কিন্তু তাঁর গাড়ির নম্বর কেন ব্যবহার হলো? জোসেফ বলেন, ‘১-২ সপ্তাহ আগে গাড়ি বিক্রির জন্য OLX-এ বিজ্ঞাপন দিই।’ তিনি জানান, ওই গাড়ির নম্বর প্লেটকে কেন্দ্র করেই এখন বিতর্ক। সেখান থেকেই ওই নম্বর কেউ ব্যবহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জোসেফ। পুলিশি তদন্তে যাবতীয় সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাইকও কলকাতা থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।