নথি লোপাট করতেই খুন চন্দ্রনাথকে? এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, টাইমলাইন
আজ তক | ০৭ মে ২০২৬
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের ঠিক দু'দিন আগেই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনায়। মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথ। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫-এর মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সিট গঠন করে তদন্তও শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকে কী কী ঘটল এখনও পর্যন্ত চলুন জেনে নেওয়া যাক।
২.শুভম গার্ডেনিয়া নামে একটি আবাসনের সামনে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ থেকে ১০টা ১৫-র মধ্যে। হামলার সময় গাড়ির সামনের আসনে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর গাড়ির চালক। পিছনের আসনে ছিলেন মিন্টু নামে এক ব্যক্তি। যিনি চন্দ্রনাথ রথের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
৩.পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনায় মোট ৩জন আততায়ী ছিল। এক জন গাড়ি চালিয়ে এসেছিল। অন্য ২ জন ছিল মোটরবাইকে। সূত্রের দাবি, চন্দ্রনাথ রথ যে গাড়িতে ছিল, সেটির সামনে আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা আটকে দাঁড়়িয়ে যায় চার চাকা গাড়িটি। ফলে গাড়ি থামাতে হয় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি চালককে। এরপরই গাড়ির ২ দিক থেকে আসে ২টি মোটরবাইক। শুরু হয় গুলি চালানো। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তাতে যে গর্ত তৈরি হয়, সেখান থেকে একের পর এক গুলি করতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। মোট তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের। গুলিতে আহত হন চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়াও।
৪.আহত অবস্থায় ভিভা সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চন্দ্রনাথকে। সেখান থেকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল সিদ্ধিনাথ গুপ্তা রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে উপস্থিত হন । খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান।
৫. এই হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান শুভেন্দু । পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়ে চিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে 'মহা-জঙ্গলরাজ' হিসেবে অভিহিত করেন। 'গত ২-৩ দিন ধরে একটি ফলস নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন।' দাবি করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন। তিন-চারদিন আগে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুনের বিচার হবেই। অভয়ার মতো বিচারহীন থাকবে না এই ঘটনা।
৮. তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কর্তারাও রয়েছেন। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে সিআইডি। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। তদন্তের কাজ শেষ হওয়ার পর রথের গাড়িটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৯. এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রনাথের গাড়ি ঘিরে পর পর ১০ রাউন্ড গুলি। ছোড়া হয়। স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়। গুলি চালিয়ে দুষ্কৃতীরা রাজারহাটের দিকে পালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় তিন দুষ্কৃতীকে আটক করে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রাস্তার একাধিক CCTV ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশ কয়েক দিন ধরে রেকি করে তবেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
চন্দ্রনাথ রথের দেহের ময়নাতদন্ত করছে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর তিন সদস্যের ফরেনসিক দল। ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন আরও দুই সহকারী অধ্যাপক। বৃহস্পতিবার আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বারাসাত হাসপাতালে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তি শুভেন্দু জানান, 'স্থানীয় দুষ্কৃতী ছাড়া রেইকি করবে কে? পুলিশ তদন্ত করছে। ডিজিপির সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েকজনকে তুলেছে। পুলিশ যথাসময়ে বলবে আমার বিশ্বাস আছে। আমার মনে হয় অপেক্ষা করা উচিত। পুলিশ পারে না এমন কোনও কাজ নেই। আগে পুলিশকে করতে দেওয়া হত না। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।'