• ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতেই খুন চন্দ্রনাথ’, ক্ষুব্ধ শমীক ভট্টাচার্য
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ মে ২০২৬
  • চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে রাজ্যের শাসকদলকে কড়া বার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু কোনও সাধারণ অপরাধ নয় বরং এটি একটি ‘পরিকল্পিত প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে শমীক বলেন, ‘সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, তবে সে ভুল করছে।‘ তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিজেপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় এবং আইন নিজের হাতে নেবে না।

    বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত মেডিক্যাল হাসপাতালে পৌঁছন শমীক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী  এবং বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা । শমীকের দাবি, চন্দ্রনাথ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি কেবল শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই কারণেই তাঁর প্রশ্ন, এমন একজন ব্যক্তিকে খুন করার উদ্দেশ্য কী ছিল?

    তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, দু’দিন পর পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সেখানে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে এই হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ‘দুষ্কৃতীরা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসেনি। এত বড় পরিকল্পিত হামলার খবর স্থানীয় দুষ্কৃতী বা স্থানীয় নেতারা জানতেন না, তা বিশ্বাস করা কঠিন।‘

    শমীক জানান, বুধবার রাতে শুভেন্দু হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও জানতেন না যে চন্দ্রনাথ আর বেঁচে নেই। তিনি নিজেই শুভেন্দুকে সেই দুঃসংবাদ দেন। এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

    বারাসত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, ফলে অপরাধীরা কার্যত ভয়হীন পরিবেশে কাজ করছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের পর হিংসার অভিযোগে তৃণমূলকেই দায়ী করেন শমীক। তবে তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজনীতিতে গুন্ডাদের প্রবেশ করানোর ফল এখন সবাই ভোগ করছে।‘

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)