শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় আততায়ীর ব্যবহৃত মোটর বাইক নিয়ে ধন্দে পুলিশ। তদন্ত অনুযায়ী, যে বাইকটি ব্যবহার করা হয়েছিল তার মালিক ও ঠিকানা আসানসোল দক্ষিণের বার্নপুরের। সেইমতো বৃহস্পতিবার বার্নপুরের সেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাইক মালিকের সন্ধান করতে গিয়ে রীতিমতো আতান্তরে তদন্তকারীরা! সেখানে বিভাস ভট্টাচার্য নামে কোনও ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই। ওই ঠিকানায় যিনি থাকেন, তিনি ইস্কোর কর্মী ধরম বীর। এমনকী বিভাস বলে কাউকে তাঁরা কেউ চেনেন না বলেও জানিয়েছেন। পুলিশের অনুমান, বাইক রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত নাম-ঠিকানা সম্পূর্ণ ভুয়ো।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথকে যে বাইক থেকে গুলিতে ঝাঁজরা করা হয়েছিল, সেই বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর: WB44D1990, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান আরটিও অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন করা। মালিকের নাম বিভাস কুমার ভট্টাচার্য, পিতা: বি. বি. ভট্টাচার্য। রেজিস্ট্রেশনের তারিখ: ০৪ মে, ২০১২। বৈধতার মেয়াদ ২ মে, ২০২৭ পর্যন্ত। ঠিকানায় বাড়ির নম্বর ও রাস্তা: কোয়ার্টার নম্বর AB 7/12, গুরুদ্বারা রোড, গ্রাম/শহর: বার্নপুর। থানা/ল্যান্ডমার্ক: হীরাপুর, বর্ধমান। রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ।
কিন্তু বৃহস্পতিবার এই ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেল, বিভাস ভট্টাচার্য বলে কেউ থাকেন না। বর্তমানে এখানকার বাসিন্দা বার্নপুর ইস্কো কারখানা কর্মী ধরম বীর। ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই ঠিকানায় আছেন। বিভাস বলে কাউকে তিনি চেনেন না। আততায়ী যে বাইক ব্যবহার করেছেন, সেই বাইকও এখানে নেই। বরং ধরম বীরের মোটর বাইক ভিন্ন ও ভিন্ন রেজিস্ট্রেশনে নম্বরের। এই বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক ধরম বীর-সহ গুরুদ্বারা রোডের এবি টাইপের বাসিন্দারাও। প্রাথমিক অনুমান, রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ভুয়ো। ফলে বাইক খুঁজে পাওয়া আরও কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়াল, তা বলাই বাহুল্য।