২০২১ সালের ২ মে। বিধানসভা নির্বাচনের গণনা চলাকালীন মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ধূর্জটি সাহাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল প্রার্থীর। তারপর পেরিয়েছে ৫ বছর। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এবার বাবার খুনিরা শাস্তিরা পাবেই, আশায় বুক বাঁধছেন মৃতের মেয়ে। বললেন, “এবার বদলা চাই।”
ভোটের বাংলায় অশান্তি নতুন নয়। আক্রমণ-পালটা আক্রমণের ঘটনা লেগেই থাকে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের গণনার দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মগরাহাট। মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ধূর্জটি সাহা (মানস) ছিলেন গণনা কেন্দ্রে। স্বাভাবিক নিয়মেই ফোন তাঁর কাছে ছিল না। হঠাৎ সংবাদমাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। সহযোদ্ধারা অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। কোনওরকমে ঘুরপথে হাসপাতালে পৌঁছানো হয় ওই প্রার্থীকে। শুরু হয় চিকিৎসা। থানার দ্বারস্থ হয় পরিবার।
মৃতার মেয়ে জানান, তারপর থেকে শুরু অন্য লড়াই। ক্রমাগত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য শুরু হয় চাপ দেওয়া। খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। চারমাস হাসপাতালে থাকার পর মৃত্যু হয় ধূর্জটি সাহার। কিন্তু তাতেও হুমকি-হেনস্তা থেকে রেহাই মেলেনি পরিবারের সদস্যদের। এরপর পেরিয়েছে ৫ বছর। সদ্যই শেষ হয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন পর্ব। তৃণমূলকে উৎখাত করে বাংলার মানুষ রাজ্যের ভার দিয়েছে বিজেপির হাতে। এতেই আনন্দে ভাসছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। মৃতার মেয়ে বলছেন, “ফলাফল দেখে খুব কেঁদেছি। বাবা ফিরবে না জানি। কিন্তু এবার বদলা চাই।” বিজেপি সরকারের কাছে তাঁর একটাই আর্জি, “আমার বাবার মৃত্যুর যেন বিচার হয়। অভিযুক্তরা যেন এবার অনন্ত শাস্তি পায়।” উল্লেখ্য, গোটা বাংলায় ধরাশায়ী অবস্থা হলেও এবারও মগরাহাট পশ্চিম আসনটি নিজেদের দখলেই রেখেছে তৃণমূল।