ED-র তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ঘটল নাটকীয় ঘটনা। বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকরা দরজায় পৌঁছতেই নগদ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ বাড়ির দশতলা থেকে ছুড়ে ফেলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাঞ্জাবের এই ঘটনা ফিরিয়ে আনছে বাংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে ইডি তল্লাশির স্মৃতি। বাড়িতে ইডি হানা দিতেই ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক ছাদ থেকে পাশের পুকুরে মোবাইল ছুড়ে ফেলে দেন। ২০২৩ সালেও সিবিআই তল্লাশির সময়ে একই কাজ করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ। এ দিন পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই অভিযানের সময়েই এই ঘটনা সামনে এসেছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি জালিয়াতির মামলায় বেআইনি লেনদেনের খোঁজে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী-সহ একাধিক সংস্থার অফিস-সহ মোট ১২ জায়গায় হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর একাধিক দল। এর মধ্যে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠের বাড়ি ইডির আধিকারিকরা যখন অভিযানে পৌঁছন, তখন হঠাৎই একটি ব্যাগ ভবনের উপর থেকে নিচে ছুড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই ব্যাগ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। ব্যাগের ভিতরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও কত টাকা উদ্ধার হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
তবে এই নগদ ভর্তি ব্যাগ ছুড়ে ফেলার ঘটনা বিজেপি নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া এক্স-এ ছবি-সহ পোস্ট করে জানান। মাজিথিয়া দাবি করেছেন যে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (OSD) রাজবীর সিং ঘুমানের সহযোগী গিহালের বাসভবনে অভিযান চালানোর সময় আবাসিক কমপ্লেক্সটির বাইরে ৫০০ টাকার নোট উড়তে দেখা যায়। তার পরেই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল ভর্তি ব্যাগও উদ্ধার হয়। তাতে ছিল প্রায় ২১ লক্ষ টাকা বলে দাবি। এ ছাড়া এ দিন তল্লাশির ফলে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে আধিকারিকরা বাজেয়াপ্ত অর্থের পরিমাণ এখনও জানায়নি।
এই তল্লাশি মূলত হাওয়ালা লেনদেন এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের অংশ বলেই জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন। অভিযানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও এখনও পর্যন্ত ভগবন্ত মান বা তাঁর অফিসের তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযানের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে অতীতে আম আদমি পার্টি বারবার অভিযোগ করেছে যে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। এর আগেও পাঞ্জাবের একাধিক আপ নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইডি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি পাঞ্জাবে দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি লেনদেন নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি। এপ্রিল মাসেই পঞ্জাব ও হরিয়ানায় একাধিক জায়গায় ১৪৫ কোটি টাকার মিউনিসিপ্যাল ফান্ড দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এ দিনের অভিযানের পরে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এটি শুধুই ‘শুরু’, আগামী দিনে আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে, আপ শিবিরের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।