• তরমুজে কী করে ঢুকল ইঁদুর মারার বিষ? ফরেনসিক রিপোর্টে ঘুরে গেল তদন্তের মোড়
    এই সময় | ০৮ মে ২০২৬
  • গত ২৬ এপ্রিল মুম্বইয়ে তরমুজ খেয়ে ফুড পয়জ়নিংয়ের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যর মৃত্যুর খবর এসেছিল। তরমুজ খেয়ে কী বাবে মৃত্যু হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল চর্চা। গত সপ্তাহেই অবশ্য ময়নাতদন্ত করেছেন যে চিকিৎসক, তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, ফুড পযজ়নিং নয়, বরং রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ওই চারজনের। বৃহস্পতিবার ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে জানা গেল, ওই চিকিৎসকের অনুমাই ছিল সত্যি। মুম্বইয়ের ওই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ইঁদুর মারার বিষ থেকে।

    তাঁরা যে তরমুজটি খেয়েছিলেন, তার নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষায় সেই নমুনার মধ্যে ‘জিঙ্ক ফসফাইড’-এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই বিষাক্ত রাসায়নিক ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, মৃতদের সকলের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রের মতো অঙ্গগুলির রং সবুজ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, অঙ্গ সবুজ হয়ে যাওয়া বিষক্রিয়ার অন্যতম লক্ষণ। আবদুল্লার শরীরে আবার মরফিনও মিলেছে।

    ২৬ এপ্রিল রাতে আবদুল্লা দোকাড়িয়া (৪৫)-র বাড়িতে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উপলক্ষে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন আত্মীয়স্বজন। মাটন বিরিয়ানি হয়েছিল। অতিথিরা চলে যাওয়ার পরে রাত ১টা নাগাদ আবদুল্লা, তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই সন্তান জয়নাব (১৩) ও আয়েশা (১৬) তরমুজ খেয়েছিলেন। ভোর ৫টার মধ্যে তাঁদের প্রচণ্ড বমি ও ডায়ারিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।

    এখন তদন্তকারীদের সামনে সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, তরমুজের ভিতরে কী ভাবে মিশল ইঁদুর মারার বিষ? ভুলবশত ওই রাসায়নিক তরমুজে মিশে গিয়েছিল? নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ বা কারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই বিষ ঢুকিয়েছিল তরমুজে? পুলিশ এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওইদিন রাতে দোকাড়িয়া পরিবারের সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়েছিলেন অতিথিরাও। তাঁদের শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)