• আজ মেয়াদ শেষ, মমতা পদত্যাগ না করলে রাজ্য চালাবেন কে?
    আজকাল | ০৮ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার ঠিক মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ করতে রাজি হননি, কিন্তু বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলায় ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পরে বিজেপি জানিয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ৯ মে শপথ নেবেন। এখন প্রশ্ন হল, ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত বাংলা চালাবেন কে?

    এই বিষয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌলের সঙ্গে কথা বলেছিন। বিচারপতি জানিয়েছেন, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মমতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করেন, তবে দিনের শেষে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে অপসারিত হবেন। তিনি বলেন, “এটি একটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এমনটা আগে কখনও ঘটেনি।”

    সংবিধানে ১৭২ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। পাঁচ বছর শেষে বিধানসভাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর জন্য রাজ্যপালের কোনও পৃথক আদেশের প্রয়োজন হয় না।

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের একদিন পর মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন ভোট ‘লুট’ করার ষড়যন্ত্র করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্রের ভিতরে তাঁকে লাথি মারা হয়েছিল এবং মারধর করা হয়েছিল।

    সংবিধানের ১৬৪ নং ধারা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদ ‘রাজ্যপালের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে’ পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয়, রাজ্যপাল সরকার বরখাস্ত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর। তবে, বিকল্প সীমিত।

    বিচারপতি জানিয়েছেন, রাজ্যপাল প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত মমতাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলতে পারেন। বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি। দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথ গ্রহণ করবে মন্ত্রীরা।

    দ্বিতীয় বিকল্পটি হল একদিনের জন্য একটি অস্থায়ী প্রশাসনের ব্যবস্থা করা। বিচারপতি বলেন, “পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত মমতাকে পদে বহাল রাখার প্রথাটি রাজ্যপাল অনুসরণ করবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৯ মে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি একদিনের জন্য যে কোনও ব্যবস্থা করতে পারেন।”

    সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্যপাল এবং তৃণমূল সরকারের মধ্যেকার তিক্ত অতীত বিবেচনা করে স্থিতাবস্থার একটি ব্যবস্থা হয়তো ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। সুতরাং, মধ্যরাতের আগের ঘণ্টাগুলিতে সকলের দৃষ্টি থাকবে রাজ্যপাল আর এন রবির দিকে। যদি আনুষ্ঠানিকভাবে শাসনভার অব্যাহত রাখার কোনও আদেশ জারি না হয়, তবে রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা এক বিরল সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।
  • Link to this news (আজকাল)