ভোটে হারতেই রাজনীতি ছেড়ে দিলেন রাজ চক্রবর্তী, কী বললেন অভিনেতা?
আজ তক | ০৮ মে ২০২৬
২০২১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে লড়াই। বিপক্ষে ছিলেন ব্যারাকপুরের ‘বাহুবলী’ বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা। প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমেই ছক্কা মেরেছিলেন রাজ। ব্যারাকপুর জয়ী হন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালে বদলে গেছে সমস্ত সমীকরণ। ২০৭ টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। ভারতীয় জনতা পার্টির এই হাওয়ায় হেরে গিয়েছেন রাজ চক্রবর্তীও। সোমবার হয়েছে ফল ঘোষণা। আর পরজায়ের পর বৃহস্পতিবার সোশ্য়াল মিডিয়ায় রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা শেষ করছেন বলে ঘোষণা করলেন তিনি।
গেরুয়া সুনামিতে এবার বেশিরকভাগ তৃণমূল তারকারই পরাজয় হয়েছে নির্বাচনে। দ্বিতীয়বার ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ভোটের টিকিট পেলেও, বেশ বড় ব্যবধানে হার হয় তাঁর। বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে হারতে হয়েছে রাজকে। হারের বিপর্যয়ের পাশাপাশি, রাজকে মুখোমুখি হতে হয় নোংরা আক্রমণের। পরিচালকের গায়ে কাদা ছোড়া হয়, এমনকী তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও ওঠে।
রাজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা উত্তম দাসও। ‘রাজনৈতিক বহিরাগত’ হিসেবেই তঁকে সম্বোধন করেন ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। উত্তম দাসের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে রাজ নাকি ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ‘সিনেমাতে লোক ঢোকানোর ব্যবসা চালিয়েছেন।’ বলেন, ‘ও রাজনৈতিক লোক নয়। ধান্দাবাজ লোক। ধান্দা করতে এসেছিল। মানুষ সেটা মেনে নেয়নি। খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাব, ওকে ঢোকাব, এই বিধায়ককে ঢোকাব, ওই সাংসদকে ঢোকাব— সিনেমাতে ঢোকানোর একটা ব্যবসা খুলে বসেছিল কার্যত। ওর জন্যই ব্যারাকপুরে দলের এই হাল।’
এসবের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের রাজনৈতিক সন্ন্যাসের ঘোষণা করে দিলেন রাজ চক্রবর্তী। অভিনেতা লিখেছেন, 'জীবনে যখনই কোনো দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সবটুকু দেবার। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময় আনন্দ দেবার চেষ্টা করেছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি। ২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদাপর্ণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে সেভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গেছি। সে অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা। বাংলার মানুষের মতামতে বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ মে , ২০২৬, তারা শপথ নেবেন। তাদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করবো, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।'
এদিকে ব্যারাকপুরে নির্বাচনী হারের পর রাজ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিতর্ক ও ফলাফলের চাপের মধ্যেও স্বামীকে ‘সুপারহিরো’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।