চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত, বিচারের দাবিতে সরব বিজেপি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ মে ২০২৬
চন্দ্রনাথ র
থের
মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা। বৃহস্পতিবার
বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর শববাহী গাড়িতে করে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে তাঁর বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয় দেহ। হাসপাতালের বাইরে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের বাইরে চন্দ্রনাথের দেহে মালা দিতে দেখা যায় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর এই উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রামের ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানরাও। সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। বুধবার রাতেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের কুলটা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে মা
ছোট ভাই
ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দায়িত্ব তাঁর উপরেই ছিল। কয়েক মাস আগেই তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। পেশাগত কারণে বেশিরভাগ সময় জেলার বাইরে থাকলেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল নিবিড়। সম্প্রতি কাজের সুবিধার জন্য মধ্যমগ্রামে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে কাজ করার আগে চন্দ্রনাথ ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন। বায়ুসেনার কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির তরফে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর গ্রামে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানিয়েছেন
তিনি অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল বলে জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক তারঁর পরিবার ও এলাকার মানুষ।
শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা হাসিরানি রথ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন
‘
আমি একজন মা
তাই কারও ফাঁসি চাইব না। তবে আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার হোক। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে
তাদের কঠোর শাস্তি হোক।
‘
তিনি আরও বলেন
‘
ও যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত
এত কষ্ট পেতাম না। যেভাবে ওকে মারা হল
সেটা ভাবতেই পারছি না।
‘
বৃহস্পতিবার বিকেলে চন্দ্রনা
থের
বাড়ির সামনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। জাতীয় পতাকায় মোড়া তাঁর দেহ ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পরিচিতজন
অনুগামী ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে থেকে বারবার শোনা যায়
‘
ভারত মাতা কি জয়
’
স্লোগান।
চন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এবং জেলার একাধিক জয়ী প্রার্থীও। প্রথমে তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দেহ রাখা হলেও পরে পরিবারের অনুরোধে তাঁর মায়ের কাছে শেষবারের মতো তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। শোকস্তব্ধ পরিবেশে ছেলেকে শেষবার দেখে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সূত্রের খবর
বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এদিন চন্দ্রনাথের দেহের সামনে দাঁড়িয়েও বিজেপি সমর্থকদের একাংশ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোরতম শাস্তির দাবি তোলেন।
ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না
তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না। তদন্তকারীরা চন্দ্রনাথের সাম্প্রতিক গতিবিধি
ফোনের তথ্য এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। আপাতত ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।