• রাজ্যে সরকার গড়ছে বিজেপি, কলকাতা পুরসভা কী ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল?
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ মে ২০২৬
  • দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্যে ‘পুবে তাকাও’ নীতি অনুসরণ করে আসছে বিজেপি। এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিপুল জয়ের পর সেই কৌশল যেন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন থেকে আবার ঐতিহ্যবাহী মহাকরণে স্থানান্তরিত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগম ও পুরসভার ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে।

    আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তৃণমূলের আশঙ্কা, নতুন সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট করাতে পারে। কারণ, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতায় বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার বিস্তৃতি তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের ১৬টি বিধানসভা আসনে। তার মধ্যে ১১টিতে জিতেছে বিজেপি। কলকাতা পুরসভার আওতাধীন ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ১০১টিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের হিসাব। অন্যদিকে তৃণমূলের দখলে রয়েছে মাত্র ৪৩টি ওয়ার্ড। ফলে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    প্রকাশ্যে না-বললেও তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা একান্ত আলোচনায় মেনে নিচ্ছেন, কলকাতা পুরসভা তাঁদের পক্ষে ধরে রাখা কঠিন হবে। উল্লেখ্য, বাম জমানাতেই দু’বার কলকাতা পুরসভায় জিতেছিল তৃণমূল। প্রথম বার ২০০০ সালে। তার পরে আবার ২০১০ সালে। ২০১১ সালে ‘পরিবর্তন’-এর পর থেকে কলকাতা তৃণমূলেরই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, কলকাতা-সহ শহরাঞ্চলে পুরসভায় দিনের পর দিন ভোটই হয় না। কারণ, তৃণমূল নিজের মতো করে ভোট করাত। যার নেপথ্যে থাকত পুলিশের ‘সক্রিয়তা’। ক্ষমতা হারানোর পরে সেই সুযোগ তৃণমূলের সামনে নেই।

    তৃণমূলের অন্দরেই এখন আত্মসমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। অনেক নেতা মনে করছেন, মানুষের ক্ষোভ শুধু রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও জমেছিল। দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ, বেআইনি নির্মাণ এবং সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরাঞ্চলে জলাজমি ভরাট করে বহুতল তৈরির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা বারবার সরব হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।

    তৃণমূলের একাংশের মতে, বর্তমানে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকা কসবা, তিলজলা, তপসিয়া, খিদিরপুর, মোমিনপুর, বালিগঞ্জ, রাজাবাজারের মতো কিছু ওয়ার্ড ছাড়া তৃণমূল আর কোথাওই সে ভাবে মাথা তুলতে পারবে না।ছাড়া কলকাতার অধিকাংশ অংশেই দলের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিজেপির উত্থানে দলের কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক কাউন্সিলরই আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এলাকায় কাজ করা এবং কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে উঠছে।

    শুধু কলকাতা নয়, বিধাননগর, হাওড়া, চন্দননগর, আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ির মতো পুরনিগম এলাকাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী পুরভোটে এই এলাকাগুলিতেও তৃণমূলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলের অন্দরে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)