• চন্দ্রনাথ রথ খুনের আগে শেষ কথা বলেছিলেন শংকর ঘোষের সঙ্গে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ মে ২০২৬
  • চন্দ্রনাথ রথের খুন নিয়ে রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। বুধবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কোথা থেকে আততায়ীরা এসেছিল, কীভাবে পরিকল্পিত হামলা চালানো হল এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে— সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জোরকদমে চলছে তদন্ত।

    ঘটনার সময় চন্দ্রনাথ ফোনে কথা বলছিলেন শংকর ঘোষের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, কথা বলতে বলতেই আচমকা চন্দ্রনাথের গলা জড়িয়ে যায়। তারপর আর স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ করতেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু যেহেতু সর্বদা ব্যস্ত থাকেন, তাই দলের বিধায়ক থেকে শুরু করে অধিকাংশই যাবতীয় প্রয়োজনীয় কথা সেরে নিতেন চন্দ্রনাথের সঙ্গে। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে অধিকাংশ নেতাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

    বুধবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নতুন সরকার গঠন এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করতেই শংকর ঘোষ ফোন করেছিলেন চন্দ্রনাথকে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্যে আসা নিয়ে তখন বিজেপি নেতৃত্বের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সেই আলোচনা চলাকালীনই হঠাৎ শংকর ঘোষ বুঝতে পারেন, চন্দ্রনাথের কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চান, শরীর খারাপ লাগছে কি না। কিন্তু আর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

    শংকর জানান, ফোনের ওপার থেকে কয়েকজনের চিৎকার ও গোলমালের আওয়াজ ভেসে আসছিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোন করেন। প্রথমবার ফোন বেজে গেলেও পরে এক ব্যক্তি ফোন ধরে জানান, চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে শংকর প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেন। তিনি ফোন না ধরায় মেসেজ পাঠান। তখন শুভেন্দু কলকাতা ছেড়ে কোলাঘাটের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। মেসেজ দেখেই তিনি শংকরকে ফোন করে পুরো ঘটনা শোনেন এবং দ্রুত মধ্যমগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)