সরকার বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে সচিবালয়। নবান্নের ব্যস্ত বারান্দা থেকে মহাকরণে ফিরতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর। আর সেই খবর রটতেই ভোল বদলাতে শুরু করেছে অফিস পাড়ার। লক্ষ্মীলাভের আশায় বুক বাধছে ফুটপাথের হোটেলগুলি। ‘বাবু’দের জুতো পালিশ করতে আগেভাগে ফুটপাথ দখল হয়েছে রাইটার্সের সামনে।
শনিবার রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। রাইটার্সের ভিতরে মুখ্যমন্ত্রী সহ মুখ্যসচিব ও একাধিক সচিবালয় সাজানোর কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস স্থানান্তরিত হওয়ায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাও বাড়িয়ে দিয়েছে লালবাজার। বর্তমানে দু’জন সার্জেন্ট পদমর্যাদার অফিসার সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে রাইটার্সের সামনে।
২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাইটার্স বয়কট করে নবান্নে যাওয়ার পর আর তিনি সে মুখো হননি। ১৩ বছর বিজেপির হাত ধরে মৌনতা ঘুচল মহাকরণের। সরকারি পালাবদলের সঙ্গে লালবাড়িতেও ফিরছে চেনা ছবি। সেই খবর রটতেই খাবারের স্টলগুলি নতুন করে সচল হতে শুরু করেছে অফিস পাড়ায়। ফের লক্ষ্মীলাভের আশা করছেন ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা বলছেন, “গত ১২ বছর ধরে আমাদের ব্যবসা কার্যত শিকেয় উঠেছিল। বাম আমলে খাবারের প্রধান অর্ডারই আসত রাইটার্স থেকে। অফিস পাড়ার একটি ভাতের হোটেলের মালিক বলছেন, “বাম আমল থেকে এখানে ব্যবসা করছি। সরকারি অফিস থেকে আগে অর্ডার পেতাম। নবান্নে সচিবালয় হওয়ার পর মন্দা দেখেছি বহুদিন।”
শুধু তাই নয়, রাইটার্সের উলটো দিকের ফুটপাথে দেখা গেল জুতো পালিশের সরঞ্জাম নিয়ে সার দিয়ে বসে আছেন তিন-চারজন। সাম্প্রতিক অতীতে তাঁদের দেখা যেত না রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ধারেকাছেও। হঠাৎ আবার এখানে কেন? প্রশ্ন করতেই একজন বলেন, “শুনলাম লালবাড়ি থেকে আবার সরকার চলবে। অফিসার, পুলিশরা আবার আসবেন। তাই আগে থেকেই বসে পড়েছি। নাহলে পরে আর জায়গা পাব না। জ্যোতিবাবুর সময়ে তো এখানেই বসতাম।” গত ১২ বছরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে রাইটার্স চত্বরে। তৈরি হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর স্টেশন- মহাকরণ। এই স্টেশনের পাশেই নতুন করে হকাররা বসতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই। রাইটার্স বিল্ডিংকে কেন্দ্র ফের ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অফিসপাড়ার ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা।