ব্যারাকপুরে পরাজয়, ফল ঘোষণার দু'দিন পরেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা রাজের
আনন্দবাজার | ০৭ মে ২০২৬
৪ এপ্রিল ফলপ্রকাশ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়। ফলপ্রকাশের দু'দিন পরেই রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুরে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়েন। জিতে পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন রাজ। কিছু দিন আগে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ তথ্যচিত্রের পরিচালনাও করেছিলেন তিনি।
তবে এ বছর নির্বাচনে তিনি পুরনো কেন্দ্রে ফের দাঁড়ালও হেরে যান। ফল বেরনোর দু'দিন পরে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ে ইতি টানার কথা বললেন পরিচালক। সমাজমাধ্যমে ব্যারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক লেখেন, ‘‘জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি৷ এক জন পরিচালক হিসাবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সবসময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও হেরেছি। কখনও জিতেছি। ২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ৷ মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।’’ একই সঙ্গে বিজেপিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রাজ।
তিনি লেখেন, ‘‘বাংলার মানুষের মতামতে নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ মে ২০২৬-এ তাঁরা শপথ নেবেন। তাঁদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করব, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।’’
ভোটের সময় ব্যারাকপুরে তাঁর রোড শো ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা, কিন্তু ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে কাদা ও ঘুঁটেও ছোড়া হয়। তার পরে অবশ্য রাজের তরফে মেলেনি প্রতিক্রিয়া৷ এই প্রেক্ষিতে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনও উত্তর মেলেনি৷ প্রসঙ্গত, রাজের পরাজয়ের পরেই তাঁর স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন৷ রাজই তাঁদের জীবনের নায়ক। এই পরাজয়ে যাতে কোনও ভাবেই পরিচালকের মনোবল ভেঙে না দিতে পারে সেই ইঙ্গিতই মিলেছিল নায়িকার লেখায়৷