• জলপাইগুড়ি শহরে মাত্র ৪টি বুথে ১০০ পেরল বাম-ভোট, নোটার সমান কংগ্রেস
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একসময় বাম-কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল জলপাইগুড়ি। এখান থেকে বামেদের বিধায়ক যেমন নির্বাচিত হয়েছেন, তেমনই ছিলেন কংগ্রেসের এমএলএ। কিন্তু সেখানেই এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে বাম ও কংগ্রেসের। এবারের ভোটের ফলের নিরিখে তিস্তাপাড়ের শহরে ওই দুই দলকে কার্যত দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে। 

    ২০০৬ সালে একক ক্ষমতায় লড়ে জলপাইগুড়ি আসনে বিধায়ক হয়েছিলেন কংগ্রেসের দেবপ্রসাদ রায় ওরফে মিঠুদা। এরপর ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে ভোটে জেতেন কংগ্রেসের সুখবিলাস বর্মা। ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট হয় কংগ্রেসের। সেই জোটের প্রার্থী হিসাবে জলপাইগুড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে ফের বিধানসভায় যান সুখবিলাসবাবু। ২০২১ সালে জলপাইগুড়ি আসনে প্রথম জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা। ২০০৬ সালের পর ২০২৬, কুড়ি বছরের ব্যবধানে কংগ্রেস একক ক্ষমতায় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে ভোটে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নোটার চেয়ে মাত্র ১০টি ভোট বেশি পেয়েছে। জলপাইগুড়ি আসনে নোটার ভোট যেখানে ২৬০৭, সেখানে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ২৬১৭। 

    জলপাইগুড়ি শহরে কংগ্রেসের দু’জন কাউন্সিলার। অথচ ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, পুর এলাকায় হাত শিবির সাকুল্যে ভোট পেয়েছে ১১৯৫টি। একটি বুথেও সেঞ্চুরি করতে পারেনি। অর্থাৎ কোনো বুথেই তাদের প্রাপ্ত ভোট একশো পার করেনি। টেনেটুনে দু’টি বুথে হাফ সেঞ্চুরি করেছে কংগ্রেস। 

    অন্যদিকে, বামেদের তরফে বরাবর জলপাইগুড়ি আসনে প্রার্থী দিয়ে থাকে ফরওয়ার্ড ব্লক। কিন্তু এবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় সিপিএম। এনিয়ে গোঁসা হয় ফব নেতৃত্বের। সেসময় সিপিএমের তরফে বলা হয়েছিল, ভোটে লড়ার মতো ফরওয়ার্ড ব্লকের সাংগঠনিক শক্তি নেই। তুলনায় জলপাইগুড়িতে সিপিএমের সাংগঠনিক ভিত মজবুত। অবশ্য ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, মুখ থুবড়ে পড়েছে তারাও। জলপাইগুড়ি বিধানসভায় বাম প্রার্থী দেবরাজ বর্মন এবার মোট ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ৩২৪টি। এরমধ্যে জলপাইগুড়ি শহরে বামেদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৫০৭২টি। পুর এলাকায় সিপিএমের একজন কাউন্সিলার রয়েছেন। তা সত্ত্বেও শহরে একেবারেই ছাপ ফেলতে পারেনি বামেরা। পুর এলাকায় মাত্র চারটি বুথে তারা সেঞ্চুরি করেছে। অর্থাৎ, ওই বুথগুলিতে তাদের প্রাপ্ত ভোট একশো পেরিয়েছে। শুধু তাই নয়, একুশে বাম-কংগ্রেস জোট যেখানে জলপাইগুড়ি আসনে প্রায় ২৩ হাজার ভোট পেয়েছিল, সেখানে এবার এই দুই দলের ভোট যোগ করলে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার। এমন হাল নিয়ে অবশ্য সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের সাফাই, এবার তৃণমূলকে হঠাতে গিয়ে মানুষ পদ্মফুল প্রতীককে বেছে নিয়েছে। তারা শুধু জেনেছে যে, কাকে মসনদ থেকে সরাতে হবে। কিন্তু এরজন্য কাকে ভোট দিচ্ছে তারা, সেটা বেশিরভাগ মানুষই বিচার করেনি। 

    সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের মন্তব্য, এবার ভোট ছিল ‘ডাকাত’ তাড়ানোর ভোট। কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি তথা পুরসভার কাউন্সিলার অম্লান মুন্সির দাবি, এবারের ভোট কাউকে জেতানোর জন্য ছিল না। তৃণমূলকে হারানোর ভোট ছিল। তবে কংগ্রেসের এতটা খারাপ ফল নিয়ে তাঁর মন্তব্য, অন্তত দু’বছর আগে থেকে কংগ্রেস হাইকমান্ডের মাঠে নামা উচিত ছিল। তা হয়নি। তাছাড়া ব্লুপ্রিন্টও ছিল না। সেকারণে হয়তো মানুষ আমাদের প্রাসঙ্গিক মনে করেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)