• মেঘ-কালবৈশাখীর দাপট, বোরো ধান তোলা নিয়ে শঙ্কা
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: বুধবার থেকে মাথার উপর কালো মেঘ দাপাচ্ছে। মেঘের দোসর কালবৈশাখীও ধেয়ে আসছে। দুই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় বোরো চাষিদের রাতের ঘুম ছুটেছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় সিংহভাগ জমিতে এখনও পাকা ধান পড়ে। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার আতঙ্কে চাষিরা চিন্তায় রয়েছেন। ঝড়, বৃষ্টির আগে জমিতে নেমে ধান ঘরে তুলতে চাষিরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। চাষিদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বোরো চাষে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। এখন নির্বিঘ্নে সেই ধান ঘরে তোলাই চাষিদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে উদ্বেগের কারণ নেই বলেই চাষিদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। জেলা কৃষি দপ্তরের  সহকারি কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসক) উৎপল মণ্ডল বলেন, আবহাওয়া চাষিদের ধান তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে না বলেই মনে হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় সমস্যা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ক্ষতি অপেক্ষা অন্য ফসলের ক্ষেত্রে লাভই হয়েছে। হারভেস্টার মেশিন মাঠে নামলে কয়েক দিনের মধ্যেই চাষিরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন। আতঙ্কের কারণ নেই।

    মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ৮০-৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর চাষ হয়। এই ধান চাষে রোগ পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। কীটনাশক প্রয়োগে চাষের খরচও বাড়ে। পাশাপাশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কখনও কখনও সেচেও সমস্যা দেখা দেয়।  এবার বোরো চাষে ধান পাকা পর্যন্ত চাষিদের  সমস্যায় পড়তে হয়নি। ফলে ধানের ফলন দেখে চাষিরা উচ্ছ্বসিত। বুধবার থেকে আকাশের অবস্থা পরিবর্তিত হতে শুরু করায় ধান চাষিরা যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ১০-১৫ শতাংশ ধান চাষি ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। এই ১৫ শতাংশ ধান চাষিরা হাতে কেটেই ঘরে তুলেছেন। ৮৫ শতাংশ ধান মাঠেই রয়েছে। স্থানীয় চাষি সাধন ঘোষ বলেন, হারভেস্টার মেশিন মাঠে নামলে একদিনে মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। তবে সেই সুযোগ পাওয়া যাবে কি না সেটাই চিন্তার। বহু মাঠে ইতিমধ্যে হারভেস্টার মেশিন নেমে পড়েছে। রাতেও ধান কাটা ও ঝাড়া চলছে। আরএক চাষি রঞ্জিত পাল বলেন, আকাশের দাপাদাপি দেখে ভয় হতে শুরু করেছে। তবে দিন চারেক সময় পেলেই গুছিয়ে নিতে পারব।  -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)