পুরুলিয়ায় খুলল তৃণমূলের কার্যালয়, ব্লক সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক জেলা সভাপতির
বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: জেলায় বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার খুলল জেলা তৃণমূলের কার্যালয়। এদিন ওই অফিসেই পরাজিত প্রার্থীদের পাশাপাশি ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে করেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এদিনের বৈঠকে একাধিক ব্লক সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না। পরাজয়ের পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী দিনে দল পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলার নটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল মার্জিনে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা। দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন সহ সব প্রার্থীরাই হেরে যান। ভোট গণনার পরই কয়েকজন বিজেপি কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা কার্যালয়ের ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে দেন। জেলা কার্যালয় থেকে তৃণমূলের সব পতাকা সরিয়ে দেওয়া হয়। গণনার পর থেকে তালা বন্ধই ছিল পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়। জেলা কার্যালয়ে ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়ার পরেও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তেমন কোনো প্রতিবাদ চোখে পড়েনি। ঘটনার প্রায় দু’দিন পর অবশেষে বৃহস্পতিবার পুনরায় খোলা হল জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়। জেলা তৃণমূল সভাপতি সহ পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সঙ্গে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিদের নিয়ে এদিন বৈঠক হয়। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে জেলার একাধিক ব্লকের দলের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না। তবে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠকে প্রতিটি বিধানসভা ধরে হারের পর্যালোচনা করে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঠিক কী কী কারণে ভোটে ভরাডুবি হয়েছে, সেবিষয়ে নিজেদের মতামত জানান নেতারা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ির সামনে বাজি ফাটানো থেকে শুরু করে পরিবারের লোকজনের কটূক্তি করা এবং পার্টি অফিসগুলি জোর করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেবিষয়ে খোঁজ খবর নেন জেলা নেতারা। কর্মীদের পাশে সবসময় থাকার বার্তা দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব।
তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বলেন, পার্টি অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভুল খবর রটানো হয়েছিল। দলীয় কার্যালয় বন্ধ হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। ভোটের কাজে সবাই ব্যস্ত থাকায় গণনার দিনের পর অফিস বন্ধ ছিল। সেই সুযোগে বিজেপির কর্মীরা অফিসের ব্যানার, পোস্টার সব ছিঁড়ে দেয়।
এবিষয়ে থানায় এফআইআর করা হবে। এদিন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আগামী দিনে দলের পথ চলা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাত বলেন, বিক্ষিপ্ত যা ঘটনা ঘটার ঘটে গিয়েছে। দলের কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।