বাঙালিয়ানার মোড়কে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ, সীতাভোগে মিষ্টিমুখ, সঙ্গে ঝালমুড়ি
বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মেরুকরণ বনাম বাঙালিয়ানা। এবারের বিধানসভা ভোটে শাসকদলের সঙ্গে প্রধান বিরোধী বিজেপির লড়াইটা ছিল মূলত এই রসায়নের উপর দাঁড়িয়ে। মেরুকরণের রাজনীতির মোকাবিলায় বাঙালিয়ানার অস্ত্রেই শান দিয়েছিল তৃণমূল, সিপিএমও। নেট নাগরিকদের একটা অংশও বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি, অস্মিতা রক্ষায় সরব ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বেগতিক বুঝে বিজেপিও বাঙালিয়ানাকে তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সম্পূর্ণ নিরামিষাশী হিন্দি বলয়ের নেতারাও ভাগ বসিয়েছিলেন বাঙালির মাছে-ভাতে। ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতেই গেরুয়া ঝড় উঠল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে, আপাতত বিজেপি যে বাঙালিয়ানাকে ছাড়ছে না, তা ভোটের ফল প্রকাশের দিনই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ময়ূরপুচ্ছ ধূতি পরে ‘খাঁটি বাঙালি’ সাজে হাজির হয়েছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনও বেছে নেওয়া হয়েছে পঁচিশে বৈশাখকে। ওইদিন বাঙালির অহংকার কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী। জয়ী প্রার্থীরা পরে আসবেন ধূতি-পাঞ্জাবি। রবীন্দ্রসংগীতের সুরের মূর্চ্ছনায় ভাসবে শপথগ্রহণের মঞ্চ। থাকবে বাংলার শিল্প-কৃষ্টি সংস্কৃতির ছাপ। কবিগুরুকে সম্মান জানিয়েই শুরু হবে শপথগ্রহণ। খাবারে থাকবে বাঙালি ডিশ। সঙ্গে ঝালমুড়ি ও বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা।
কালনা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল মিহিদানা, সীতাভোগের কথা। জিভে জল আনা এই দুই মিষ্টির কদর শুধু বাংলায় নয়, প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও বেশ প্রিয়। শক্তিগড়ে এসেছেন অথচ ল্যাংচা বা মিহিদানা, সীতাভোগের স্বাদ নেননি, এমন সেলিব্রিটি খুবই কম রয়েছেন। সেই সীতাভোগ এবং মিহিদানাও এবার রাজনৈতিক ময়দানে জায়গা করে নিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জামালপুরে ভোট প্রচারে এসে ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়ানোর কথা বলেছিলেন। দু’জনেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। প্রতিশ্রুতি মতো প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়াতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দলের এক নেতা বৃহস্পতিবার বলছিলেন, তৃণমূল ভোট পর্বে বিজেপি নেতাদের গায়ে বহিরাগত তকমা সেঁটে দিয়েছিল। ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে বলে তারা দাবি করেছিল। সেই ধারণা যে ভুল ছিল, তার প্রমাণ মিলবে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে। বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতির সব কিছুই থাকবে সেখানে। এক অন্য ধরণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেখবে বাংলা। জানা গিয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী সহ কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও ডাক পাচ্ছেন অনুষ্ঠানে। বাংলার সব স্তরের মানুষকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ, রূপোলি পর্দার নায়ক নায়িকা সহ বিশিষ্টজনরা থাকবেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সকাল ১০টায় শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হবে। শুভক্ষণ দেখেই অনুষ্ঠানের সূচি ঠিক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে এসে বলে গিয়েছিলেন বাংলা মিডিয়ামে পড়া, বাংলা জানা জনপ্রতিনিধিকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। বিজেপি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। অমিত শাহ আজ শুক্রবারের বৈঠকে প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন। বাঙালিয়ানার মোড়কে শুরু হবে বাংলা শাসনের নতুন অধ্যায়।