• বেহালা পূর্ব এবং পশ্চিমে তৃণমূলের ১২ শতাংশ ভোট বিজেপির ঝুলিতে
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কলকাতা পুরসভার ১০টি ওয়ার্ড। ডায়মন্ড হারবার রোডের উলটো দিকে বেহালা পূর্ব বিধানসভা। কলকাতা পুরসভার ১১টি ওয়ার্ডজুড়ে এই বিধানসভার বিস্তৃতি। পূর্ব এবং পশ্চিম এই দুই  বিধানসভায় প্রায় ৩ লক্ষের মত ভোটার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই দুই বিধানসভার সবকটি ওয়ার্ডই তৃণমূলের দখলে। তিনটি বিধানসভা, দু’টি লোকসভা ভোট দেখেছে বেহালা। একটি ওয়ার্ডকেও টলানো পারেনি বিরোধীরা। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সেই শক্ত গড়েই উলটপুরাণ। ২০২১ সালের থেকে এই দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ১২ শতাংশ ভোট হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। জোড়াফুল শিবিরের উপর আস্থা হারিয়ে মানুষ ভরসা করেছে পদ্মশিবিরের উপর। এই গেরুয়া ঝড়ে অতিরিক্ত হাওয়া দিয়েছে বামেরাও। বেহালা পূর্বের প্রায় ৭ শতাংশ ভোট বামেদের থেকে সোজা চলে গিয়েছে রামে। আর বেহালা পশ্চিমে প্রায় ৪ শতাংশ বামভোট ক্লিয়ার সুইপ করে গিয়েছে পদ্মে। এই ভোট লসের কারণ অনুসন্ধানে অনেক যুক্তিই উঠে আসছে। দলের আতসকাচের নীচে রয়েছে কাউন্সিলারদের ভূমিকাও।

    একুশের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রাপ্তভোট ছিল মোট ভোটদানের প্রায় অর্ধেক, নির্দিষ্টভাবে ৪৯.৫১ শতাংশ। জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেবার বিজেপি পেয়েছিল ২৭.৫৬ শতাংশ ভোট। প্রার্থী ছিলেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সমর্থনে বেহালায় রোড শো করেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই রোড শোতে ছিলেন বেহালা পূর্বের বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী পায়েল সরকার। তিনি তাঁর কেন্দ্রে পেয়েছিলেন ৩৩.১৫ শতাংশ ভোট। ৫০.০১ শতাংশ ভোট পেয়ে বেহালা পূর্বের বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূলের রত্না চট্টোপাধ্যায়। ওই বছরই পুরসভা নির্বাচন হয়। তাতে এই দুই বিধানসভায় ২১টি ওয়ার্ড জিতে নেয় তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধুমাত্র বেহালা পূর্বের ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির তুলনায় ১ হাজার ৭০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। 

    কিন্তু তার মাত্র দু’বছরের মধ্যে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি বদল। ছাব্বিশের নির্বাচনের হিসেব অনুযায়ী, বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ভোট গত বিধানসভার তুলনায় কমেছে ১২.৪৬ শতাংশ। দল বলছে, এই ফলাফল কল্পনাতীত। এছাড়া বেহালা পূর্বেও তৃণমূলের ১১.৫১ শতাংশ ভোট কেটেছে বিজেপি। টিএমসির ভোট ব্যাংকে এই বিরাট ধস নামার কারণ কী? 

    জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ২১ জন কাউন্সিলারের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে দল।  বেহালার ভোটারদের বক্তব্য, ‘প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে জেলে গিয়েছেন। আর অন্য বিধায়কের দেখাই পাওয়া যেত না। ফলে মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ব্যবধান তৈরি হয়। অনেক কাউন্সিলারের চেহারা পর্যন্ত চোখে পড়ত না। তারই ফল ফলেছে বিধানসভা নির্বাচনে।’ তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের বক্তব্য, ‘একই বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয়েছিল একাধিক গোষ্ঠী। তাঁরা এই নির্বাচনে দলের টিকিট পাবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

    বেহালা পূর্বের জয়ী প্রার্থী বিজেপির শঙ্কর সিকদার পুরভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন। এছাড়া গতবার বিধানসভা নির্বাচনে কসবা থেকে বিজেপির হয়ে দাঁড়ান ইন্দ্রনীল খাঁ। তৃণমূলের জাভেদ খানের কাছে পরাজিত হন। এবার বিজেপি বেহালা পশ্চিম থেকে প্রার্থী করে ইন্দ্রনীলবাবুকে। এবার জয়ীও হলেন তিনি। যদিও বেহালার দুই বিজেপি প্রার্থীর প্রচার এই নির্বাচনে ছিল সাদামাটা। কেন্দ্রীয় নেতারা পা রাখেননি এখানে। এছাড়াও বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে আচমকা প্রার্থী বদল করে দিয়েছিল বিজেপি। তবে এসবের প্রভাব পড়েনি ভোট মেশিনে। গেরুয়া ঝড়ে দুই বিজেপি প্রার্থীই জিতে গিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)