চুঁচুড়ায় বিধায়ক সুবীর নাগকে ঘিরে নাগরিক ও দলীয় কর্মীদের উন্মাদনা
বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ায় দলগতভাবে কোনো বিজয় উৎসব করবে না বিজেপি। অন্তত রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এমন কোনো কর্মসূচি তারা পালন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কর্মী-সমর্থক থেকে নাগরিকদের একাংশের উল্লাস বাঁধ মানছে না। বিরাট ব্যবধানে জয়ের পরে ইতিমধ্যেই পাড়া থেকে মহল্লায় বিজেপির নতুন বিধায়ক সুবীর নাগকে ঘিরে বেনজির উৎসাহের ছবি দেখা গেল। নাগরিক মহলের একাংশ বলছে, হুগলির জেলা সদরে আচমকা যেন কিছুটা তাজা হাওয়ার আভাস মিলছে। সেসবে বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছেন পদ্মকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া ময়দান এলাকায় গিয়েছিলেন সুবীর নাগ। এমনিতে চুঁচুড়ার নতুন বিধায়ক আড্ডাপ্রিয় মানুষ। ফলে, ময়দান এলাকায় বহু বছর ধরেই তাঁর যাতায়াত। কিন্তু বৃহস্পতিবার ছিল অন্য আবহ। নাগরিক মহলের ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে। উৎসাহীদের কেউ কেউ তাঁকে বাদামের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান। নতুন বিধায়ককে ঘিরে যেমন উৎসাহ দেখা গিয়েছে, তেমনই সামনে এসেছে উন্নয়নের আব্দারও। সুবীরবাবু বলেন, নির্বাচন পর্বেই মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখেছি। চুঁচুড়ার মানুষ আমাকে উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। আমার দায়িত্ব চুঁচুড়ায় উন্নয়নের যাবতীয় পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। কর্মীরা এদিনও বলেছেন, শহরে যেন খোলা হাওয়া বইছে। চুঁচুড়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতির বদল হয়েছে, সেই আভাসেই নাগরিকরা খুশি হচ্ছেন, আনন্দ করছেন। সেটাও এক রকমের বিজয়োৎসবই। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিজয় উৎসব আমরা আপাতত পালন করছি না। তাতে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে। তবে কর্মীরা নিজেদের মতো করে আনন্দ করছেন।
পালাবদলের দিন দুপুর থেকেই চুঁচুড়ায় গেরুয়া শিবিরে উল্লাসের ছবি ধরা পড়েছিল। তবে তা ছড়িয়ে পড়ার আগেই রাশ টেনেছিলেন নতুন বিধায়ক। কারণ, উৎসাহ কোথাও কোথাও মাত্রাছাড়া হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। যদিও স্বাভাবিক আনন্দের আবহ চুঁচুড়ায় বদলায়নি। সুবীর নাগের জয় নিয়ে চুঁচুড়ার বিভিন্ন পাড়ায় আলোচনা অব্যাহত।
নাগরিক মহল বলছে, একটি নতুন সম্ভাবনার সূত্রপাত হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সেই উন্মাদনার ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরমধ্যে বহু বছর বাদে চুঁচুড়া মন্ত্রী পেতে পারে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বাম আমলের পরে চুঁচুড়ার বিধায়কের ভাগ্যে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসেনি। বিজেপি নেতৃত্ব নতুন সরকারে সব জেলার প্রতিনিধিত্ব রাখতে চায়। সেই নিরিখেই উত্তরপাড়ার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, চন্দননগরের দীপাঞ্জন গুহ, সিঙ্গুরের বিধায়ক ডাঃ অরূপকুমার দাস, শ্রীরামপুরের ভাস্কর ভট্টাচার্যের নাম নিয়ে চর্চা চলছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা সদরের বিধায়ক সুবীর নাগের নামও চর্চায় আছে। সেটাও নাগরিক মহলে বাড়তি উৎসাহের সঞ্চার করেছে।