• সিঙ্গুর: টাটাদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশে স্থগিতাদেশ
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ফের সংবাদ শিরোনামে সিঙ্গুর! সিঙ্গুরে জমি ফেরত সংক্রান্ত মামলায় টাটাদের ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশে বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৮ সপ্তাহের জন্য এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারকে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে বলে নির্দেশে জানিয়েছে আদালত। এরপরই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানিয়েছে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। 

    সিঙ্গুর নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কখনো হাইকোর্ট আবার কখনো সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এর মধ্যেই ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর সিঙ্গুরে কারখানা না-হওয়ার কারণে টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয় ট্রাইবুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ। মূল টাকার সঙ্গে ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা পাওয়ার দিন পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ এবং মামলার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। যদিও ট্রাইবুনালের এই নির্দেশ পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সেখানেও ধাক্কা খেতে হয় তাদের। এই মামলা খারিজ করে ফের হাইকোর্টে শুনানির জন্য ফেরত পাঠায় শীর্ষ আদালত। দীর্ঘ সময় অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এর মধ্যেই রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে। তৎকালীন সরকারের দায়ের করা মামলায় ট্রাইবুনালের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।

    ২০০৬ সালে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্পের জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। ২০০৮ সালে তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরিয়ে গুজরাতের সানন্দে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

    এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ‘সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট’ পাস করে জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। ২০১৬-র ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে টাটাদের জন্য দেওয়া ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করে। আদালতের নির্দেশ ছিল, ১২ সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে। আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকার সেই জমি চাষযোগ্য করে কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল।
  • Link to this news (বর্তমান)