• জাহাঙ্গিরের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রবীণ তৃণমূল নেতাদের
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বজবজ: ফলতায় সিপিএমের অত্যাচারের সময় যাঁরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে তৃণমূলের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন, তাঁরাই পরবর্তীকালে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। পরিবর্তে মাথাচাড়া দিয়েছিল তৃণমূলের যুবা সংগঠন। আর জাহাঙ্গির খান ছিল সেই সংগঠনের মাথা। তার স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণেই এখন ফলতা থেকে মুছে যেতে বসেছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার বেলসিংহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রবীণ তৃণমূল নেতা অশোক দাস একথা বলেন।

    তিনি বলেন, চোখের সামনে দেখেছি ছোটো জাহাঙ্গিরকে। গরিব পরিবারের ছেলে। অনটনের সংসার ছিল তাদের। ওর বাবা আকবর খান সিপিএমের সমর্থক ছিলেন। এক যুগের বেশি হবে সময়টা। আমাদের এখানে তখন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ভক্তরাম মণ্ডল। বিধায়ক ছিলেন তমোনাশ ঘোষ। আর যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন মানবেন্দ্র মণ্ডল। জাহাঙ্গিরকে এক সময় পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী করার জন্য ওর বাবা সিপিএমের কাছে দরবার করেছিলেন। কিন্তু সিপিএম তাকে টিকিট না দেওয়ায় আকবরের ক্ষোভ হয়। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছিল তৃণমূলের তৎকালীন নেতৃত্ব। তাঁরা সিপিএমের ভোটব্যাংক ভাঙতে জাহাঙ্গিরকে প্রার্থী করেন। জাহাঙ্গির সেই ভোটে জেতার পর কপাল খোলে তার। তৃণমূলের আরও কয়েকজন প্রবীণ নেতা বললেন, পরবর্তীকালে জাহাঙ্গির সকলের সঙ্গেই চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যুবার সভাপতি হওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিধায়ক তমোনাশ ঘোষকে প্রকাশ্যেই চড় মারে সে। তোলাবাজি, হুমকি, দাদাগিরি, মারধর— জলভাত হয়ে গিয়েছিল তার। দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি পদে অসম্মানিত করত সে। পরে দলের ব্লক সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য হয়ে যায় জাহাঙ্গির। জেলা পরিষদের তৎকালীন সভাধিপতি শামিমা শেখের সঙ্গে বিরোধ হয় তার। এরপর দলের উপর মহলে কলকাঠি নেড়ে শামিমা শেখকেই সরে যেতে বাধ্য করে সে। এভাবেই বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠে জাহাঙ্গির। এখন সে কয়েক কোটি টাকার মালিক। 
  • Link to this news (বর্তমান)