নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, প্রায় ৯৯ শতাংশ বুথে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। চুঁচুড়া বিধানসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তৃণমূল তো বটেই চোখ কপালে উঠছে রাজনৈতিক মহলেরও। চুঁচুড়া পুরসভার হাতে গোনা দু’টি বুথ আর গ্রামের গোটা কয়েক বুথ থেকে লিড পেয়েছিল তৃণমূল। তার পরিণতিতে জেলা সদরের বিধানসভায় প্রায় ৪২ হাজার ভোটে জিতেছে পদ্মপার্টির সুবীর নাগ। ভোটের হারও চমকপ্রদ, ৫৩.৯৬ শতাংশ। রাজনৈতিক মহলের দাবি, একগুচ্ছ সমীকরণ ওই গেরুয়া টর্নেডোর পিছনে কাজ করেছে। তারমধ্যে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, বামেদের ভোট কার্যত লজ্জাজনক জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, বিজেপির ‘প্রবাসী’ কার্যকর্তাদের সুনিপুণ কৌশলও কাজ করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, ভোটের ফলাফল আমরা বিশ্লেষণ করছি। ইতিমধ্যে দলনেত্রী একটি পর্যালোচনা কমিটি করে দিয়েছেন। দল অবশ্য ভবিষ্যতের নিরিখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যদিও চুঁচুড়ার পদ্ম-বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, জনরোষ আছড়ে পড়েছে ‘চোর’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেটা মেনে নিতে তৃণমূলের সমস্যা থাকতে পারে, নাগরিক মহল তাঁদের মতামত দিয়ে দিয়েছেন। জনাদেশ বলছে, তৃণমূল সমস্ত সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল। তাই শহর থেকে গ্রাম, সকলে মুখ ফিরিয়েছে।
চুঁচুড়া বিধানসভার বুথভিত্তিক ফলাফল বলছে, গুটিকয় জায়গা ছাড়া তৃণমূল কোথাও সামান্য লড়াই দিতে পারেনি। একের পর এক বুথে বিজেপি কম-বেশি লিড পেয়েছে। শহরের হিসাব ধরলে শহর সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সদস্য, সবার ওয়ার্ডে হারের হাহাকার। বিরল ব্যতিক্রম চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য জয়দেব অধিকারীর ওয়ার্ড ও নয় নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে তৃণমূল কিছুটা লিড পেয়েছে। গ্রামীণ এলাকার পোলবা সহ কিছু জায়গার গুটিকয় বুথ গেরুয়া সুনামির সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো জেগে আছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজ্যে সরকার বিরোধী হাওয়া ছিল। তাতে দলের হারও হতে পারত। কিন্তু ফলাফল যেমন দেখাচ্ছে সেই পরিস্থিতি তৈরির মতো হাওয়া ছিল না। তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। গত লোকসভায় হুগলিতে জিতেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বহিরাগত রচনাকে নিয়ে তৃণমূলের একাংশের মাতব্বরের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এরপরে বিধানসভায় ফের বহিরাগত দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করে দল। তিনি নেত্রী ও সেনাপতি’র কাছের লোক হওয়ায় মৌরসীপাট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আতঙ্ক গ্রাস করে স্থানীয় মাতব্বরদের। তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে বলা হচ্ছে, সেই আতঙ্কও দেবাংশুর বিপুল হারের পিছনে রয়েছে। সঙ্গে গত লোকসভা থেকে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা হ্রাস হওয়ার ধারাও কাজ করেছে। আবার, বিজেপি’কে আম-ছালা সব দিয়ে দিয়েও বামেদের তহবিলে ১১ শতাংশ ভোট ছিল। এবারের নির্বাচনে তা ৫.৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সেই অঙ্কও বিজেপি’কে মাইলফলক ব্যবধানে জিতিয়ে দিতে সাহায্য করেছে।