• আজ শাহের বৈঠক, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর নাম
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জন সংঘ থেকে বিজেপি—দীর্ঘ সাড়ে সাত দশকের অপেক্ষা। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করছে গেরুয়া পার্টি। সোমবার বিপুল জনাদেশ। তারপর থেকে আম জনতার একটাই প্রশ্ন—কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? অপেক্ষার চারদিনের মাথায় আজ, শুক্রবার বহুচর্চিত সেই উত্তর মিলবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় তোলপাড় হয়ে রয়েছে বাংলা। এই পরিস্থিতিতেই আজ দুপুর ৩টেয় দলের নবনির্বাচিত বিধায়করা নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বৈঠকে বসবেন। সেখানেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তিনিই রাজ্যপালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পাশাপাশি শনিবার রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন। এই প্রক্রিয়া সারতেই বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলার পরবর্তী প্রশাসনিক প্রধান বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া সারতে পর্যবেক্ষক হিসাবে তাঁকে নিয়োগ করেছে। সহ-পর্যবেক্ষক থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। মুখ্যমন্ত্রী মুখ নির্বাচনের আগে অমিত শাহ এবং মোহন মাঝি বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারেন বলে খবর। তারপর গন্তব্য কনভেনশন সেন্টার। 

    যদিও একটা বিষয় নিশ্চিত, চিত্রনাট্য সাজানোই রয়েছে। সেই মতোই আজ গোটা বিষয়ের রূপদান হবে। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুমোদন নিয়ে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করবেন অমিত শাহ। সর্বসম্মতির ভিত্তিতে জয়ী পদ্ম এমএলএরা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানাবেন। যাঁর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তিনি বৈঠকের পর সরাসরি রাজভবনে যাবেন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাতে। এক্ষেত্রে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গেরুয়া শিবিরের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। তারপর থেকেই মোদি-শাহের অ্যাসিড টেস্টের মুখে পড়েন শুভেন্দু। পরিষদীয় পরিসরে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করে রাখতে মরিয়া লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। যদিও তৃণমূলের দল ভাঙানোর আগ্রাসন থেকে গেরুয়া বিধায়কদের রক্ষা করতে পারেননি। চলতি বিধানসভা ভোটে আরও এক অগ্নিপরীক্ষার সামনে শুভেন্দুকে ফেলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মমতার গড় ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করে। তবে, সাম্প্রতিক অতীতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। যোগী আদিত্যনাথ, মোহনচরণ মাঝি, মোহন যাদব, সম্রাট চৌধুরী সহ একঝাঁক উদাহরণ রয়েছে। বাংলার ক্ষেত্রে কী হবে? পার্টির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশের অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে বাংলার তুলনা চলে না। এই উপলব্ধি কেন্দ্রীয় নেতাদের হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্তও একান্ত জরুরি।’
  • Link to this news (বর্তমান)