• ‘চন্দ্রদা’র খুনিদের গ্রেপ্তারি চেয়ে রাতভর বিক্ষোভ
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বুধবার রাত তখন ১০টা। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়াতে ভাড়াটে খুনির গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। জখম হন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দু’জনকেই আনা হয় মধ্যমগ্রাম চৌমাথা লাগোয়া একটি নার্সিংহোমে। আর সেখানে ভিড় জমান বিভিন্ন প্রান্তের বিজেপি নেতা, কর্মী-সমর্থকরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমায়েত বাড়ে। রাজারহাট, নিউটাউন, বারাকপুর থেকেও বিজেপি কর্মীরা আসেন। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাতভর দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা। বারাসত মেডিকেল কলেজ-হাসপাতালে যেখানে ময়নাতদন্ত হয়েছে চন্দ্রনাথের, সেখানে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ। বেলা যত গড়িয়েছে মর্গের সামনে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিজেপি কর্মীদের ভিড়। চোখের জলে ‘চন্দ্রদা’কে বিদায় জানালেন কর্মী সমর্থকরা। মর্গেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে শ্রদ্ধা জানান ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ও। 

    বুধবার রাতে মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নার্সিংহোম চত্বরে। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যশোর রোড। রাজ্যের প্রথম সারির বিজেপি নেতারা আসেন। রাত ১২টা নাগাদ সেখানে আসেন শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁকে দেখেই ফের স্লোগানে ফেটে পড়েন কর্মীরা। তবে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের একাংশের আচরণে অস্বস্তি বাড়তে থাকে বিজেপির অন্দরেই। কোথাও অতিরিক্ত স্লোগান, কোথাও হইচই— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলেরই একাধিক নেতা। বিশেষ করে কিছু কর্মীর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। প্রকাশ্যেই কর্মীদের একাংশকে ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, একজন মানুষ মারা গিয়েছেন সেখানে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার কী আছে! বিজেপির একাংশের মতে, ‘অতি উৎসাহী’ কর্মীরা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে। রাতেই মধ্যমগ্রামে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করা থেকে তাদের মারধরের ঘটনাও ঘটছে। তৃণমূলের নেতারা এখন অন্তরালে। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে খুনের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ থাকার অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে বলে জানাচ্ছে রাজনৈতিকমহল। এদিকে নিজের সহায়কের খুনের পিছনে রাজনীতির যোগ আছে বুধবার রাতে হলফ করে বলেননি শুভেন্দু অধিকারী। নার্সিংহোমে দাঁড়িয়ে বুধবার রাত আড়াইটার সময় শুভেন্দুবাবু বলেন, আমাদের মতো জনপ্রতিনিধিদের কাজকর্মের জন্য কিছু লোকের উপর নির্ভর করতে হয়। তাঁরা অরাজনৈতিক। চন্দ্রনাথও অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বায়ুসেনাতে উনি দেশের সেবা করেছেন। গত ১৫ বছরে রাজ্যে প্রতিহিংসা চলছে। তবুও এই মুহূর্তে খুনের ঘটনা নিয়ে কোনো কনক্লুশনে আসছি না। যদিও বৃহস্পতিবার শুভেন্দুর অভিযোগ, আমি ভবানীপুরের জিতেছি বলেই খুন হতে হল নিরীহ ছেলেটাকে। পাল্টা মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, আমরাও চাই, নৃশংস এই খুনের ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত।
  • Link to this news (বর্তমান)