• ‘বাজি ভেবেছিলাম, পরে বুঝি গুলি’, নৃশংস খুনের ২৪ ঘণ্টা পরও আতঙ্কিত মধ্যমগ্রামের মানুষ
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাড়ির ছেলে-মেয়েদের পড়াতে ব্যস্ত ছিলেন কেউ। কোথাও রাতের রান্নার শেষ প্রস্তুতি চলছিল। টিভির পর্দায় তখন সন্ধ্যার সিরিয়াল বা খবর। আবার কোনো আবাসনের বারান্দায় বসে চলছিল রোজকার গল্পগুজব। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বৃহস্পতিবার রাতটা ঠিক এমনই স্বাভাবিক ছন্দে এগচ্ছিল।তারপর আচমকাই বদলে গেল সবকিছু। পরপর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ কেঁপে যায় গোটা এলাকা। প্রথমে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি, ঠিক কী হয়েছে! কেউ ভেবেছিলেন বাজি। কেউ আবার ভেবেছিলেন বাইকের আওয়াজ। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বারান্দা থেকে মানুষ নীচে দেখতে শুরু করেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন ছুটতে থাকেন এদিক-ওদিক। তড়িঘড়ি বন্ধ হতে থাকে বাড়ির দরজা-জানালা। তারপরই খবর আসে—গুলি করে খুন করা হয়েছে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। স্থানীয়দের দাবি, গোটা ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটেছে যে প্রথমে কেউ তা বুঝতেই পারেননি। কয়েক মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিল সাধারণ শহুরে রাতের ছবি, সেখানেই আচমকা নেমে আসে আতঙ্কের থমথমে পরিবেশ। সরু রাস্তায় তখন শুধু দৌড়ঝাঁপ, চিৎকার আর আতঙ্কিত মুখ। রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দোহাড়িয়ার পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নীল-লাল আলো জ্বালিয়ে একের পর এক পুলিশের গাড়ি তখন এলাকাজুড়ে। ঘিরে ফেলা হয় ঘটনাস্থল। শুরু হয় তদন্ত। কে বা কারা এই হামলার পিছনে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এমন আতঙ্কের রাত তাঁরা আগে দেখেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্বাভাবিক শহুরে জীবন স্তব্ধ হয়ে যায় আতঙ্ক, রক্ত আর মৃত্যুর খবরে। 

    জানা গিয়েছে, প্রায় তিনবছর ধরে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া শৈলেশনগরের একটি অভিজাত বহুতল আবাসনের ১৩ নম্বর ব্লকের সেকেন্ড ফ্লোরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন চন্দ্রনাথ। বুধবার রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। আর তখনই আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা হলেন। বৃহস্পতিবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, দোহাড়িয়া, শৈলেশনগর, মাঠপাড়া সহ গোটা এলাকা থমথমে। কার্যত বন্‌঩ধের চেহারা নিয়েছে এলাকা। ‘ক্রাইম সিন’ ঘিরে ফেলে পুলিশ। দু’একটি দোকান ছাড়া সবই বন্ধ। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মানুষও খুব একটা বাইরে বের হচ্ছেন না। বন্ধ দোকানের সামনে বসে দু’চারজন মহিলা কথা বলেছিলেন শ্যুটআউটের ঘটনা নিয়ে। ঘটনাস্থলের ১০০ মিটার দূরেই রয়েছে অভিজাত বহুতল আবাসন। সেখানেই থাকতেন চন্দ্রনাথ। ফ্ল্যাটে ঝুলছে তালা। আবাসনের এক নিরাপত্তা রক্ষী বলেন, তিনবছর ধরে চন্দ্রদা স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সকালে উনি যেতেন, রাতে ফিরতেন। হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। আর তাঁর সঙ্গেই এমনটা হল। এদিকে প্রতিবেশী সায়ন্তনী মজুমদারের চোখেমুখে আতঙ্ক। বলছিলেন, এখানে প্রায় সাতবছর আছি। কিন্তু এমন নৃশংস ঘটনা দেখিনি। এর বিচার দরকার। অন্যদিকে রামেন্দু পাল নামে এক বাসিন্দার কথায়, উনি যে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক ছিলেন জানতাম না। সাধারণ জীবনযাপন ছিল। ঘটনার পর জানলাম। আমরাও আতঙ্কিত।
  • Link to this news (বর্তমান)