• দফায় দফায় বৃষ্টি শহরে, ফিরল চেনা জলছবি
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকে রাত, দফায় দফায় শহরে বৃষ্টি। উত্তর কলকাতায় ভারী বর্ষণ হয়নি। তবে দক্ষিণ কলকাতা এবং কলকাতার সংযুক্ত অঞ্চলে ঝেঁপে বৃষ্টি হয়। এর ফলে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক রাস্তায় জমে যায় জল। পাশাপাশি টালিগঞ্জ, রিজেন্ট পার্ক, যোধপুর পার্ক ইত্যাদি এলাকায় ১০টির মতো গাছ ভেঙে পড়ে। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটার চেনা ছবি দেখা যায় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। বেলা গড়াতেই ঝেঁপে বৃষ্টি। কিছুক্ষণ প্রবল বৃষ্টি এবং তীব্র হাওয়া। তারপর আবার রোদ দেখা দেয়। কিন্তু বেলা বাড়তেই ফের বৃষ্টি। দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতে কার্যত ভেসে যায় শহর। সাদার্ন অ্যাভিনিউ, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো, প্রতাপাদিত্য রোড সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জল জমে যায়। পাম্প চালিয়ে জল নামানোর চেষ্টা করে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে খবর, এদিন সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে সাদার্ন অ্যাভিনিউ জোনে। সেখানে ৮২ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে দুপুর পর্যন্ত। কুঁদঘাট অঞ্চলে ৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। 

    সকাল থেকে দুপুর দফায় দফায় বৃষ্টির পর সন্ধ্যার পর আবার প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। একইসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া। রাতের দিকে একাধিক রাস্তায় জল জমে যায়। সারাদিন দুর্যোগ চলার ফলে শহরে ১২টির মতো গাছ ভেঙে পড়ে বলে পুরসভার সূত্রে খবর। টালিগঞ্জের ঘোষপাড়া, যোধপুর পার্ক, রিজেন্ট পার্ক অঞ্চলে গাছ ভেঙে পড়ে। টালিগঞ্জের ঘোষপাড়ায় গাছ উপড়ে রাস্তার বাতিস্তম্ভ ভেঙে যায়। এর ফলে আটকে যায় পথ। পুরসভার উদ্যান বিভাগের কর্মীরা গাছ কেটে রাস্তা সাফ করেন। পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা জানান, অবস্থা সামলাতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় জমা জল নামাতে পাম্প চালানো হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় নিকাশির কাজ চলছে। সেখানে জমে রয়েছে জল। এছাড়া, টালিগঞ্জ এবং কুদঘাটের মাঝে গাছ পড়ে যাওয়ায় আপ এবং ডাউন উভয় লাইনে এদিন দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। এইসময়ে মেট্রো চলেছে দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত।

    প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বর্ষার মোকাবিলায় পুরসভা বিশেষ টিম তৈরি করে। শহরের জলমগ্নপ্রবণ অঞ্চলগুলিতে অর্থাৎ যেখানে একটু বেশি বৃষ্টি হলে জল জমার সম্ভাবনা তৈরি হয় সেখানে অস্থায়ী পাম্প বসানো হয়। তবে চলতি বছর এখনও পর্যন্ত বাড়তি পাম্পের ব্যবস্থা করা হয়নি। বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশনে টিম তৈরি রাখা হয়েছে। যেখানে রাস্তায় জল জমছে সেখানে পুরসভার টিম পাঠিয়ে প্রয়োজনে ম্যানহোল, গালিপিট খুলে জল নামানোর ব্যবস্থা হয়েছে। এদিন শহরের উত্তর অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। ই এম বাইপাস সহ দক্ষিণ কলকাতা, বেহালার বিস্তীর্ণ অংশে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার জেরে বেহালার পর্ণশ্রী অঞ্চলে জল দাঁড়িয়ে যায়। একাধিক জায়গায় নারকেল গাছ, আম গাছ ভেঙে পড়ে। পুরসভার আধিকারিকরা জানান, শহরের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তবে উত্তর কলকাতায় সেভাবে জল জমেনি।  গাছ ভেঙে বিপত্তি টালিগঞ্জে। 
  • Link to this news (বর্তমান)