• গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণের শ্রীঅঙ্গে চন্দনের প্রলেপ পড়ে, গৌড়ীয় মঠে উৎসব
    বর্তমান | ০৮ মে ২০২৬
  • সুকান্ত বসু, কলকাতা: গ্রীষ্মে শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গে চন্দন লেপন করতে হয়, না হলে তাঁর গরমে ক্লেশ হয়। চন্দন দিলে তিনি শীতল হন। সে কারণে দাবদাহকালে ২১দিন ধরে চন্দন উৎসব হয় বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে। ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করেন চন্দন ও সুগন্ধি। ফুল দেওয়া হয় দেবতার সামনে। সুবাস ছড়াতে ধূপ জ্বলে।

    অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয় চন্দনযাত্রা। চলে ২১দিন। এ বছর সে দিনটি শেষ হচ্ছে ১০মে। চন্দন উৎসবে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণকে ঘিরে উপাচারে মাতেন। সন্ধ্যায় হয় ধর্মীয় উৎসব। হরিনাম সংকীর্তন ছাড়াও চৈতন্য চরিতামৃত, ভাগবত পাঠ প্রভৃতি একটানা চলে। হয় বিশেষ পুজো। গৌড়ীয় মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, সত্যযুগে পুরীর মহারাজা ইন্দ্রদ্যুন্মকে শ্রীজগন্নাথদেব তাঁর অঙ্গে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে চন্দন লেপন করার আদেশ প্রদান করেন। কলিযুগে চৈতন্যদেবের গুরুদেব ইশ্বরপুরী ও তাঁর গুরুদেব মাধবেন্দ্রপুরীকে বৃন্দাবনের গিরিধারী গোপালের অঙ্গে চন্দন লেপন করার আদেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই এই মহা উৎসব শুরু হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, ২১দিন ব্যাপী চন্দন লেপনের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের সকল ত্রিতাপ জ্বালা দূর হয়। তারপর তিনি খুশি হয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ ও প্রেম বিলিয়ে থাকেন। মঠ সূত্রে খবর, চন্দন উৎসবে শ্রীকৃষ্ণকে সুগন্ধি ফুল দেওয়া হয়। রজনীগন্ধা, জুঁই, গন্ধরাজ, কামিনী দেওয়ার রীতি। এছাড়াও থাকে সুগন্ধি দ্রব্য। এছাড়াও প্রতিদিন বেশভূষা পরিবর্তন করা হয়। একেক দিন একেকরকম পোশাকে তিনি ভক্তদের কাছে প্রকট হন। শ্রীঅঙ্গে পরানো হয় অলঙ্কার। উৎসব চলে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। উৎসবে রাজ্যে‌র নানা প্রান্ত ছাড়াও অন্যান্য প্রদেশ থেকে ভক্তরা এসে ভিড় জমান উত্তর কলকাতার এই পবিত্র ভূমিতে।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)