এই সময়, বর্ধমান: এ বারের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বর্ধমান পুর এলাকায় জঞ্জাল সাফাই কার্যত বন্ধ। পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডেই এখন কমবেশি ময়লার স্তুপ। প্রতিদিন সাফাইকর্মীরা রাস্তার ধারের আবর্জনা তুলে নিয়ে যেতেন। এখন তা করছেন না অনেক জায়গায়। কয়েকটি ওয়ার্ডের সাফাইকর্মীরা নিজেদের কাজ করলেও বাকিরা বসে রয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে অনেককেই অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, সেই আশঙ্কা থেকেই তাঁরা কাজ করছেন না। এর ফলে রাস্তার ধারে জমছে আবর্জনা। স্তূপীকৃত সেই আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কুকুরের দল ময়লার প্যাকেট ছিঁড়ে রাস্তায় ছড়াচ্ছে।
জিটি রোড, মেহেদিবাগান থেকে বর্ধমান স্টেশন চত্বর এলাকার অবস্থা আরও খারাপ। স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী সহদেব সাহা বললেন, ‘দুর্গন্ধে টিকতে পারা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হওয়ার পরে জঞ্জাল পচে গিয়ে আরও নরকের চেহারা নিয়েছে। কুকুরে মুখে করে গোটা রাস্তায় ছড়িয়ে দিচ্ছে ময়লা, হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর থেকেই এই যন্ত্রণা আমাদের সহ্য করতে হচ্ছে।’
জিটি রোডের বাসিন্দা অঞ্জনা সাঁই বললেন, ‘বাড়ি থেকে ময়লা নিতে আসত। ভোটের রেজাল্টের আগের দিন থেকেই সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা রাস্তার ডাস্টবিনে গিয়ে ময়লা ফেলে আসছি। সেখান থেকে ময়লা তোলা হচ্ছে না। একটা অদ্ভূত সমস্যা তৈরি হয়েছে।’
বর্ধমান পুরসভায় এ দিনও গিয়ে দেখা গিয়েছে, হাতে গোনা কয়েক জন কর্মচারী কাজ করছেন। তাঁরা কেউই এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। পুরপ্রধান ও উপ–পুরপ্রধান দু’জনেরই ঘর বন্ধ। পুরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকারকে ফোনে এই বিষয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘পুরসভার সাফাইকর্মীরা সব ওয়ার্ডে কাজ করছেন না কেন, তা আমিও জানি না। কয়েকটি ওয়ার্ডে সাফাইয়ের কাজ হচ্ছে। একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। নতুন সরকার শপথ নিক, তার পরে আমরা পুরসভায় যাওয়ার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করব।’