• পুজোর ভাতা পাওয়া ক্লাবেও নীরবে গেরুয়া অভিযান
    আনন্দবাজার | ০৮ মে ২০২৬
  • পাড়ার ক্লাব থেকে হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন— ভোটের অনেক আগেই তলে তলে তাদের পাশে টেনে নিতে পেরেছিল বিজেপি। এই নীরব অভিযান সম্পর্কে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব জানতেই পারেননি বলে এখন দাবি করছেন গেরুয়া নেতারা।

    ক্ষমতায় আসার পরেই দুর্গাপুজোর সময়ে পাড়ায় পাড়ায় ক্লাবগুলিকে টাকা দিয়ে সমর্থন আদায়ের কৌশল নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোড়ায় সফলও হন তিনি। এ বার ক্লাবগুলিকে পাশে টানতে পাল্টা তৎপর হয় বিজেপি। দলের ব্যাখ্যা, ভোটের কয়েক মাস আগে থেকে চুপচাপ ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু হয়। তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ক্লাবের সব ধরনের খোঁজখবর নিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘তৃণমূল টাকা দিয়েই খালাস। কিন্তু পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ক্লাবগুলির আস্থা অর্জন করে বিজেপি। ফলে আনুগত্যের প্রশ্নে ক্লাবগুলি যে শিবির পাল্টে ফেলেছে তা ধরতে পারেনি তৃণমূল। তা ছাড়া পনেরো বছরের প্রাতিষ্ঠানিক চুরির কারণে মমতার উপরে যুব সমাজ যে প্রবল ক্ষেপে ছিল তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট।’’ দল মনে করছে, তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি শুধু ক্ষোভ নয়, এক প্রকারের ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যবাসীর একাংশের। যে কারণে তৃণমূলের পরিচিত মুখকে রাস্তায় দেখলেই ‘চোর চোর’ আওয়াজ দিচ্ছে আমজনতার একাংশ।

    কেবল ক্লাবই নয়, বাংলায় বিভিন্ন শাক্ত এবং বৈষ্ণব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের এক শীর্ষ নেতা। তিনি প্রত্যেকটি সংগঠনের সঙ্গে আলাদা করে বসে সেই সংগঠনের ভোট যাতে বিজেপির পক্ষে আসে তা নিশ্চিত করেন। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, মমতার ধর্ম নিয়ে লোকদেখানো পদক্ষেপ, আন্তরিকতার অভাব হিন্দু সমাজের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। যা ভোটের সময়ে কাজে লাগিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির ওই নেতার কথায়, ‘‘ক্লাবগুলি যে ডিগবাজি খেয়ে গিয়েছে বা ধর্মীয় সংগঠনগুলির সমর্থন কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে কোনও ধারণাই ছিল না তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের।’’ যার একটি বড় কারণ তৃণমূলের আইপ্যাক নির্ভরতা। বিজেপির কথায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে যাওয়া ওই সংস্থা যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে চোখ বন্ধ করে ভরসা করেছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি কী, সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

    এ বারে কার্যত ৯টি জেলায় আসন পায়নি তৃণমূল। এর মধ্যে একাধিক জেলায় তৃণমূলের সাংসদ থাকলেও, আসন জিততে ব্যর্থ হয়েছে দল। বিজেপি শিবিরের মতে, তৃণমূলের সাংসদ রয়েছেন এমন কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী বেছে নেওয়ার প্রশ্নে সাংসদের সঙ্গে কোনও আলোচনার প্রয়োজন মনে করেননি মমতা-অভিষেকেরা। বিজেপি শিবিরের দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে যেখানে অভিষেক তথা আইপ্যাক ছড়ি ঘুরিয়েছে, সেই এলাকায় ভাল ফল হয়েছে তাদের (বিজেপি)। কারণ, কেবল প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই সাংসদদের শুধু ব্রাত্য করে রাখা নয়, প্রচারের ক্ষেত্রেও তাঁদের ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে এক জন সাংসদের অধীনে যে ছ’টি-সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র থাকে তা জেতানোর প্রশ্নে সাংসদদের দায়বদ্ধতা ছিল না। প্রচারের প্রশ্নে সাংসদদের সঙ্গে দলের ওই দূরত্ব বৃদ্ধি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ভোটের ফলে। যার ফায়দা পেয়েছে বিজেপি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)