• কোভিডে বাবার মৃত্যু, সংসারের জোয়াল কাঁধে নিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মাধ্যমিকে প্রথম অভিরূপ
    প্রতিদিন | ০৮ মে ২০২৬
  • কোভিড কেড়েছিল বাবাকে। তারপর থেকে মাথায় একটাই চিন্তা ছিল উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্রের, নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ডুবে গিয়েছিল লেখাপড়ায়। যার ফল মিলল। মাধ্যমিকে গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথম উত্তর দিনাজপুরের সারদা বিদ্যামন্দিরের অভিরূপ ভদ্র। পর্ষদ সভাপতি ছেলের নাম ঘোষণা করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা অভিরূপের স্বপ্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।  

    উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা অভিরূপ ভদ্র। বরাবরই মেধাবী হিসেবেই পরিচিত। বাবা পেশায় ছিলেন ঠিকাদার। করোনা প্রাণ কাড়ে তাঁর। সেই থেকেই সংসারের জোয়াল মা ইন্দ্রাণী ভদ্র চৌধুরীর কাঁধে। তিনি পেশায় নার্স। বাবার মৃত্যুর পর অভিরূপ বোঝে, সংসার দায়িত্ব এবার তাকে নিতে হবে। লেখাপড়ায় আরও বেশি করে বুঁদ হয়ে যায় সে। দিনভর ডুবে থাকত পড়াশোনায়। পাড়ার লোকেদের কাছে কার্যত অপরিচিত মুখ সে। কারণ, ঘর থেকে বিশেষ বেরই হয় না অভিরূপ। শুক্রবার পর্ষদ সভাপতি রামানুজ বন্দ্য়োপাধ্যায় প্রথম স্থানে তার নাম ঘোষণা করতেই ছোট্ট দু’কামরার বাড়িতে যেন উৎসবের মরশুম। 

    অভিরূপের মা ইন্দ্রাণীদেবী চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “ছেলে ভীষণ পরিশ্রম করেছে। ভেবেছিলাম প্রথম দশে থাকবে। কিন্তু প্রথম হবে ভাবতে পারিনি।” বড় হয়ে কী হতে চায় অভিরূপ? ছাত্র নিজেই জানিয়েছ, সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। অভিরূপের সাফল্যে আপ্লুত স্কুলের শিক্ষকরা। তাঁরা বলেন, ভেবেছিলেন অভিরূপ প্রথম তিনজনের মধ্যে থাকবে। কিন্তু প্রথম স্থান অধিকার করবে তা ভাবতে পারেননি তাঁরাও। কৃতী এই ছাত্রকে শুভেচ্ছা জানিয়েছন রায়গঞ্জের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কও। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)