পালাবদলের পর মিলবে স্বাস্থ্যসাথী? দোলাচলে হাসপাতাল, দুর্ভোগের শিকার রোগীরা
প্রতিদিন | ০৮ মে ২০২৬
কেউ ফেরাচ্ছে। কেউ ফেরাচ্ছে না। কিন্তু বিভ্রান্তিও কাটছে না স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi ) প্রকল্প নিয়ে। নেব কি নেব না, সেটার ভিতর দিয়েই কোথাও রোগী ভর্তি হচ্ছে। কোথাও আবার কৌশলগতভাবে বলা হচ্ছে, “বেড খালি নেই।” বিভিন্ন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, এমনিতে অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। কিস্তিতে টাকা দিয়েছে রাজ্য। এরইমধ্যে পালাবদলের পর খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু হবে রাজ্য সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই, বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থাকবে কি না তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। আর সেই ধন্দে পড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের পৃথক পৃথক সিদ্ধান্ত। তার ফলে কোথাও রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছেন, কোথাও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি।
এনিয়ে জেলাগুলিতে কোথাও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। তাই স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi ) বাতিল হয়েছে এমনটা নয়। কিন্তু বিভ্রান্তি এবং অনুমানের উপর ভিত্তি করেই অনেকে পরিষেবা দিতে চাইছেন না। বিশেষ করে, এমনিতেই টাকা বকেয়া রয়েছে, সেই বোঝা আর বাড়াতে চান না কেউই। কিন্তু রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম সংগঠনের তরফে কোনও আপত্তি নেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দিতে। তারা সংগঠনের কোনও সদস্যকেই স্বাস্থ্যসাথীতে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে না বলেননি জানিয়ে প্রাইভেট নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটালস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আশরফ হোসেন বলেন, “পরিষেবা তো দেওয়া হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও কোনও কর্তৃপক্ষ হয়তো তাঁদের মতো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সংগঠনের তরফে আমরা বলেছি, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার দরকার নেই। নতুন সরকার নিশ্চয় আমাদের পাওনা মেটাবে। তা নিয়ে অসুবিধা হবে না বলেই বিশ্বাস। সমস্যা হলে সংগঠন পাশে থাকবে।”
মুর্শিদাবাদের প্রোগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটালস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে হাসানুজ্জামান বলেন, “আমাদের কাছে তো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চলবে না এমন কোনও নির্দেশিকা নেই। তাই পরিষেবা দিচ্ছি। দিতে বলছি। এটা মানবিক বিষয়। সেভাবেই দেখা উচিত। অনেকটা টাকাই তো বকেয়া রয়েছে রাজ্যের কাছে। এখন পরিষেবা মানে আরও বকেয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিষেবা চালু থাকুক, চাই।” এখানে যাঁরা স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় তাঁরা সকলেই আয়ুষ্মান ভারতের মধ্যে আসবেন কি না, সেটা নিয়েও ভাবছে নার্সিংহোম সংগঠনগুলো। কারণ, এর বিভিন্ন মডিউল রয়েছে। এখানে বিজেপি শাসিত নতুন সরকার কীভাবে সেটা চালু করবে, তার দিকেই তাকিয়ে সকলেই