• চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা, এ বার মোটা জরিমানা, সিদ্ধান্ত RPF-র
    এই সময় | ০৮ মে ২০২৬
  • এই সময়: স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চলন্ত ট্রেনে ওঠা–নামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা যাতে না–ঘটে, তার জন্য নতুন পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলরক্ষী বাহিনী (আরপিএফ)। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলন্ত ট্রেনে ওঠা–নামাকে এ বার থেকে রেলরক্ষী বাহিনী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে। এতদিন পর্যন্ত এ ধরনের কাজ করলে যাত্রীদের সাধারণত সতর্ক করেই ছেড়ে দেওয়া হতো। রেল–আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির থাকলেও তার সংখ্যা ছিল খুবই কম।

    আরপিএফের এক কর্তা জানিয়েছেন, রেল আইনের ১৫৬ নম্বর ধারায় চলন্ত ট্রেনে ওঠা–নামার মতো ঝুঁকির কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থা রয়েছে। এতদিন এ রকম ঘটনায় যাত্রীদের কেবল সতর্ক করা হলেও এ বার থেকে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জরিমানা (স্পট ফাইন) করা হবে। সূত্রের খবর, এই ধরনের কাজের জন্য ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। রেলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিরুবনন্তপুরম ডিভিশনে এ রকম দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত। ওই ডিভিশনে ২০২৬–এর প্রথম চার মাসেই বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বছর ওই ডিভিশনে এমন ১১৩টি দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণ গিয়েছিল।

    আরপিএফের মতে, চলন্ত ট্রেন থেকে তড়িঘড়ি প্ল্যাটফর্মে নামতে গিয়ে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, সেগুলো সহজে এড়ানো সম্ভব। কিন্তু এ ধরনের দুর্ঘটনাগুলোই সব চেয়ে বিপজ্জনক, প্রাণঘাতী। তাঁরা জানাচ্ছেন, কামরার ভিতরে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও বহু যাত্রী কেবল তাড়াতাড়ি প্ল্যাটফর্মে নামবেন বলেই ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তিরুবনন্তপুরম হাইকোর্টও। সেখানকার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দূরপাল্লার ট্রেন ও লোকাল ট্রেন— দু’ধরনের ট্রেনের মধ্যেই পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে যেন পরবর্তী স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াবে কি না, সেই ঘোষণা করার ব্যবস্থা হয়।

    রেল জানাচ্ছে, শুধু তিরুবনন্তপুরম ডিভিশনে নয়, গোটা দেশেই প্রতি বছর বহু মানুষ চলন্ত ট্রেনে ওঠা–নামার সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত বা আহত হন। ২০২৫–এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনায় ২১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৯৩ জন। ২০২৩–এ নিউ দিল্লি রেল স্টেশনে একই ধরনের দুর্ঘটনায় ৯৮ জন মৃত এবং ৩৭ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। সে বছর ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হন ৪৮ জন।

  • Link to this news (এই সময়)