কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপির নতুন বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেখানেই ঠিক হবে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal CM) কে হবেন। নির্বাচিত বিধয়ক দিলীপ ঘোষেরও (Dilip Ghosh) থাকার কথা রয়েছে বৈঠকে। সূত্রের খবর, তাঁকেও মন্ত্রী করা হতে পারে। কোন দপ্তর দেওয়া হবে দিলীপকে? তাঁর নিজের কোন মন্ত্রক পছন্দ? শুক্রবার ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে সেই নিয়ে মুখ খুললেন খড়্গপুর সদরের নব নির্বাচিত বিধায়ক। বলে দিলেন, ‘সব দপ্তরই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি দলের কর্মী। ভোটে লড়েছেন, জিতেছেন, এখন আরও বড় মিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন দিলীপ। সেটা অবশ্যই মন্ত্রিত্ব। তবে নিজে মুখে সেই কথা বলছেন না তিনি। দিলীপ শুধু বললেন, ‘গোটা পশ্চিমবঙ্গেরই সার্বিক উন্নয়ন দরকার। তাই সব দপ্তরই গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ নেতৃত্বই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।’ নিজের কোন দপ্তর পছন্দ, তা নিয়েও সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি দিলীপ। তাঁর কথায়, ‘আমাদের লড়তে বলা হয়েছে। লড়েছি, জিতেছি। এখন সামনে বড় মিশন। আমাদের সবাইকে সেই মিশন সাকসেসফুল করতে হবে।’
বিজেপি মুসলিম বিদ্বেষী বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ছাব্বিশের নির্বাচনেও এই নিয়ে প্রচার কম হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল দিলীপকে। থাকলে কে মন্ত্রী হবেন? উত্তরে রীতিমতো ঝাঁঝিয়ে ওঠেন দিলীপ। সরাসরি বলে দেন, ‘সংখ্যালঘুদের আবার কী উন্নয়ন হবে? গত ৮০ বছর ধরে তো ওদেরই উন্নয়ন হয়েছে।’ স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, ‘বিজেপির কোনও দায় নেই সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করার। ওরা আমাদের ভোটও দেয় না।’
যদিও পরে আবার স্ববিরোধী কথা বলেন তিনি। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কোনও বঞ্চনা হবে না বলেও আশ্বাস দেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘বাড়িঘর, সরকারি সুবিধা সবই পাবে। কোনও ভেদাভেদ হবে না। মোদী সরকার আগেও দিয়েছে, আমরাও দেব।’ আদিবাসী উন্নয়নে অনেক কাজ করার আছে দাবি করে দিলীপ বলেন, ‘ভারতবর্ষে বিশাল সংখ্যক ট্রাইবাল রয়েছে। প্রায় ১০ কোটিরও বেশি। তাদের কথা কেউ ভাবে না। অটলজি প্রথম ভেবেছিলেন।’
ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীরা খুন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দিলীপ। তার দায়ও তৃণমূলের ঘাড়েই চাপিয়েছেন তিনি। দিলীপের কথায়, ‘এখনও পুরোনো সরকারের কালচার চলছে। পুলিশের এখনও ঘুম ভাঙেনি। চুরি হচ্ছে। নতুন সরকার শপথ নিলে পরিবর্তন হবে। ৯ তারিখ সব দেখতে পাবেন।’ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দিলীপ। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে চানননি মমতা। তবে বৃহস্পতিবারই মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল। দিলীপ বলেন, ‘তাঁর এখন বিধানসভায় বসার যোগ্যতাও নেই। কালীঘাটে বসে ঝালমুড়ি খাবেন।’