• মাধ্যমিকে প্রথম রায়গঞ্জের অভিরূপ, সাফল্য কী ভাবে?
    আজকাল | ০৮ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই গোটা রাজ্যের নজর কাড়ল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সাধারণ পরিবারের ছেলে অভিরূপ ভদ্র। সারদা বিদ্যামন্দিরের এই ছাত্র ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। শতাংশের হিসেবে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৭১। ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ছোট্ট দু’কামরার বাড়িতে নেমে আসে উৎসবের আবহ। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিরূপের নাম ঘোষণা করতেই আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ইন্দ্রাণী ভদ্র চৌধুরী।

    অভিরূপের জীবনের পথ মোটেই সহজ ছিল না। কোভিড অতিমারির সময় বাবাকে হারাতে হয় তাকে। পেশায় ঠিকাদার ছিলেন তাঁর বাবা। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানোর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে মা ইন্দ্রাণী দেবীর কাঁধে। তিনি পেশায় নার্স। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে অভিরূপ। খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিল, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে একমাত্র ভরসা পড়াশোনা।

    তারপর থেকেই বই-খাতাই হয়ে ওঠে তার নিত্যসঙ্গী। প্রতিবেশীদের কথায়, অভিরূপকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। দিনের বেশিরভাগ সময়ই সে পড়াশোনায় ডুবে থাকত। স্কুলের শিক্ষকরা বরাবরই তার মেধার প্রশংসা করেছেন। তবে রাজ্যে প্রথম হবে, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রথম তিনজনের মধ্যে থাকবে বলেই আশা করেছিলেন তাঁরা।

    ফল প্রকাশের পর অভিরূপের মা বলেন, “ছেলে ভীষণ পরিশ্রম করেছে। ওর ওপর ভরসা ছিল, কিন্তু রাজ্যে প্রথম হবে ভাবতে পারিনি।” ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত গোটা পরিবার। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীরা ভিড় জমিয়েছেন তাঁদের বাড়িতে। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছে পরিবার।

    অন্য দিকে, অভিরূপও তার সাফল্যের যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়েছে নিজের মা-কেই। বলেছে, "আমার বাবা নেই। মা-ই সব। মা নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি আমার সমস্ত চাহিদা পূরণ করেছে। যখন যা চেয়েছি, পেয়েছি। শুধু তাই না, আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও নানা ভাবে সাহায্য করেছে। তাই আজ আমি যা, সব মায়েরই কৃতিত্ব। মায়ের সংগ্রাম ছাড়া এই ফল সম্ভব ছিল না।" 

    বড় হয়ে কী হতে চায় অভিরূপ? সে জানায়, ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায়। তার এই সাফল্যে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষও। কৃতী ছাত্রকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রায়গঞ্জের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কও।

    অভাব, সংগ্রাম আর কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে উঠে আসা অভিরূপ ভদ্র আজ বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সাফল্যের গল্প যেন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।

    উল্লেখ্য, এ বছর পরীক্ষায় নাম নথিভুক্ত করেছিল  ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৬২৫ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিয়েছেন ৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ১০৩ জন। ছাত্রী ৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৫০জন । পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৬.৫৬ জন। অর্থাৎ এ বছর পাশের হার সামান্য বেশি। জেলাভিত্তিক পাশের হারে প্রথম স্থানে রয়েছে কালিম্পং। পাশের হার ৯৫.১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর। পাশের হার  ৯৪.৮২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। পাশের হার ৯২.৩১ শতাংশ।

    প্রথমে দশের মেধাতালিকায় রয়েছে ১৩১ জন। এর মধ্যে ১০৩ জন ছাত্র ও ২৮ জন ছাত্রী। ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে  ১.৪৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী। ১৯টি জেলার ১৩১ জন মেধাতালিকায় প্রথম দশে। উত্তর দিনাজপুর থেকে রয়েছে ১৪ জন,
  • Link to this news (আজকাল)