• ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী
    আজকাল | ০৮ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল চর্চা বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে ঘিরে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পর কে হবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মাঝে বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

    তিনি দাবি করেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার একজন ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। এতদিন ধরে মুসলিম তোষণ চলেছে। তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার পরিস্থিতি পাকিস্তানের মতো হয়ে গিয়েছিল। এবার বাংলার মানুষ মুক্তি পাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হবে।”

    এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। যদিও বিজেপির একাংশ দাবি করছে, এই মন্তব্য জনগণের “পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা”-র প্রতিফলন।

    এদিকে সূত্রের খবর, নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হলে রাজ্যে দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা নেত্রী থাকবেন বলেও জোর জল্পনা। তবে এখনও পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী । তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ মুহূর্তে অন্য কোনও চমকও দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন এবং নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত হবে, তিনি সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। এরপর রাজ্যপালের অনুমতি মিললে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    অন্যদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কর্মীদের উপর হামলা চলছে।

    তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। রাজ্যের শাসকদল জানিয়েছে, আইন নিজের পথে চলবে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
  • Link to this news (আজকাল)