• ৪২ দিন ধরে ঘোল খাইয়েছিলেন পুলিশকে, ‘ধুরন্ধর’ কৌশলেই গ্রেপ্তার TCS-এর নিদা খান
    এই সময় | ০৮ মে ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার রাতে ৪২ দিন ধরে পলাতক থাকার পরে মহারাষ্ট্রের শম্ভাজিনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে TCS নাসিকে ধর্মান্তকরণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে। প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে তাঁকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে পুলিশ। কিন্তু ক্রমাগত পুলিশকে ঘোল খাইয়ে গিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধরতে পুলিশ যে কৌশল নিয়েছিল, তা হয়তো আগামী দিনে জায়গা পাবে কোনও বলিউডি ক্রাইম থ্রিলারে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, এই ‘মাস্টারমাইন্ড’-কে জালে আনতে একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ছদ্মবেশ পর্যন্ত ধারণ করেছিল তারা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ধর্মান্তকরণ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেরার ছিলেন নিদা। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পুলিশের নাগালের একেবারে বাইরেই ছিলেন তিনি। এরপরেই পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের নারেগাঁও এলাকার কায়সার কলোনিতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে আছেন নিদা।

    লোকেশন নিশ্চিত হওয়ার পরেও পুলিশ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেনি।নিদা যাতে টের পেয়ে সতর্ক হয়ে না যান, ফের অন্য কোথাও পালিয়ে না যান, তার জন্য অন্য কৌশল নেয় পুলিশ। গত তিন-চার দিন ধরে ওই এলাকায় সমানে গোপনে নজরদারি চালানো হয়।

    এর জন্য খাকি উর্দি ছেড়ে সাধারণ পোশাক পরেছিল পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে যাতে কোনও সন্দেহ না জাগে, তার জন্য পুলিশের চেনা জিপ গাড়িও ব্যবহার করা হয়নি। ছদ্মবেশে ২০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী নিদার গোপন ডেরা এবং তার আশেপাশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, গত তিন-চার দিন ধরে নিদা ওই বাড়িতেই ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে থাকতেন নিদার বাবা-মা, ভাই এবং এক মাসি। এই তথ্য ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ফোন লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের সাহায্য নেয় পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অজ্ঞাতবাসে থেকে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের কয়েকজন আইনজীবীর থেকে আইনি পরামর্শ নিচ্ছিলেন নিদা খান। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করার জন্য জোর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই আবেদন জমা পড়ার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা কায়সার কলোনির ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

    গ্রেপ্তারির পরে গভীর রাতে নিদা খানকে সুতগিরনি চকের কাছে এক বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারকের কাছ থেকে ট্রানজ়িট রিমান্ড নিয়ে বিশেষ গাড়িতে তাঁকে নাসিকে নিয়ে যায় পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, সহকর্মীদের ইসলামি ধর্মগ্রন্থ ও ভিডিয়ো পাঠিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নিদা কানের বিরুদ্ধে। গত মাসেই TCS থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তিনি গর্ভবতী বলে দাবি করে নিম্ন আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন নিদা, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।

  • Link to this news (এই সময়)