শুক্রেই কাটতে চলেছে তামিলনাড়ুর সরকার গঠনের সমস্ত জটিলতা। চারদিনের টানাপড়েন শেষে অবশেষে ব্লকবাস্টার ফিনিশের পথে থালাপতি বিজয়। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের পরে এ বার VCK, সিপিআই এবং সিপিএম-এর সঙ্গে ‘ডিল সিল’ করল TVK। পূর্বতন শাসকদল DMK-র মিত্রদের সমর্থনেই শক্তিশালী TVK। তামিলনাড়ুতে নয়া জোট সরকার গড়ার প্রস্তাব নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে সন্ধে ৬টায় দেখা করতে যাবেন সুপ্রিমো বিজয়।
বর্তমানে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। TVK একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৮টি আসন জিতেছে । কিন্তু বিজয় দু'টি কেন্দ্র (পেরাম্বুর ও ত্রিচি পূর্ব) থেকে জয়ী হওয়ায়, তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে দলীয় বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৭। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের থেকে TVK ১০টি আসন পিছিয়ে। পরে কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় সংখ্যাটা ১১২ (১০৭+৫)-তে পৌঁছয়। বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যপাল অনুমতি না দিয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চান। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তোলে, একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও TVK-কে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এর পরেই বাকি আসনের ঘাটতি পূরণে VCK, CPI ও CPM-র মতো দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে TVK। সূত্রের খবর, প্রত্যেক দলকে ক্যাবিনেটে একটি করে আসন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অবশেষে বিজয়ের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে দলগুলি। VCK, CPI ও CPM প্রত্যেকেই তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে TVK-কে সমর্থন দিতে তৈরি। এই তিন দলেরই দু’জন করে জয়ী প্রার্থী রয়েছে। ফলে এই তিন দলের সমর্থনের পর জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৮। এই সমর্থনের ফলে TVK কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে। সমর্থনের কথা পাকা হতেই ফের রাজ্যপালের থেকে সাক্ষাতের সময় চান বিজয়।
এই পুরো পরিস্থিতি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করতে চলেছে। গত প্রায় ছয় দশক ধরে রাজ্যের রাজনীতি মূলত DMK ও AIADMK-কেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু এবার প্রথম নির্বাচনে নেমেই TVK সেই দ্বিমুখী রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ফলে এখন শুধু সরকার গঠন নয়, রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্যও অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্যপাল, জোট সমীকরণ এবং বিজয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।