Big Breaking: বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেডের মাঠে সকালে শপথগ্রহণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপির মিটিংয়ে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। ওই মিটিংয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
অমিত শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। তিনি জানান, যাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বলেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর কোনও নাম উঠে আসেনি, বলে জানালেন অমিত শাহ।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুুর ২টি কেন্দ্রেই জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা থাকার পরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার নজির বেশ কম। এর আগে জ্যোতি বসু বিরোধী দলনেতা থাকার পরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এ বার শুভেন্দু অধিকারী সেই তালিকায় এলেন। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শুভেন্দু অধিকারী প্রথম, যিনি কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারিয়ে নিজে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছেন।
এ দিন অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীর উপর ভরসা করে বাংলার জনতা যে জয় উপহার দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাসে যেন ধাক্কা না লাগে, সেটা নিশ্চিত করব আমরা। সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা চলব।’ শ্রী রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, মহর্ষি অরবিন্দের নাম স্মরণ করে অমিত শাহের মুখে রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেখা শির।’
রাজনৈতিক হিংসার জেরে দলের নিহত কর্মীদের স্মরণ করলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘এই জয়ের জন্য ৩২১ বিজেপি কর্মী তাঁদের প্রাণ দিয়েছেন... আমি সারা দেশে ঘুরেছি। কেরালা ও বাংলা ছাঁড়া অন্য কোথাও এমন হিংসা আমরা দেখেনি।’ ওই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারকে প্রণাম করেছেন অমিত শাহ।
ত্রিপুরা, অসমের পর এ বার পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপির সরকার তৈরি হয়েছে, এর পরে অনুপ্রবেশ ও গরু পাচার করা সম্ভব হবে না বলে আশ্বাস দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বাংলায় বিপুল জয়ের জন্য বাংলার জনগণের সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন, রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশের সব কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অমিত শাহ।