• ‘ঘরে ঢুকে হারিয়ে এসেছি’, মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পরে বিস্ফোরক শাহ, দিলেন দুই প্রতিশ্রুতিও
    এই সময় | ০৮ মে ২০২৬
  • মঞ্চে বসে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখে স্মিত হাসি। তাঁর পাশ দিয়েই ধীর পায়ে পোডিয়ামে গিয়ে দাঁড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে হাততালির ঝড় উঠল। একটু আগেই শুভেন্দু পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। শুভেন্দুই এ রাজ্যের প্রথম বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার নিজের বক্তৃতায় তুলে আনলেন অঙ্গ, বঙ্গ কলিঙ্গের কথা, ‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, গেরুয়াময়।’ শাহের মুখ থেকে যেন তৃপ্তি চুঁইয়ে পড়ছে। চোখে-মুখে হাজার ওয়াটের আলো। জয়ের আলো।

    স্বাধীনতার পর প্রথমবার বাংলায় সরকার গড়ছে বিজেপি। এমন দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আচমন করে দিন শুরু করা ছাড়া আর কোনও উপায় দেখেননি শাহ। ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের সেই বিখ্যাত কবিতা দু’টি লাইন দিয়েই বক্তৃতা শুরু করলেন শাহ। বলে দিলেন, ‘২০১৪ থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা অভূতপূর্ব। চিত্ত যেথা ভয় শূণ্য উচ্চ যেথা শির- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বাণী আজ সত্যি হলো।’ বাঙালির পালস ছুঁতে বঙ্কিমের প্রসঙ্গও তুললেন, ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে বিজেপি সরকার গড়ছে, এর থেকে ভালো আর কিছুই হয় না।’

    কমিউনিস্ট শাসন আর তৃণমূলের জমানাকে আলাদা করতে চাইলেন না শাহ। বোঝাতে চাইলেন, দুটোই একই মুদ্রার দুই পিঠ। শাহের কথায়, ‘পাঁচ দশক বাংলার কাছে দুঃস্বপ্ন। বাংলার মানুষের বিশ্বাস পূরণ করতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।’ তৃণমূলের জমানা কমিউনিস্ট শাসনের থেকেও ভয়াবহ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরাসরি বললেন, ‘বাম আমলের থেকেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোথাও এমন হিংসা দেখিনি।’

    বাংলাদেশ সীমান্ত অনেকটা পাঁচিলের মতো ঘিরে রেখেছে অসম, ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গ। তিনটি রাজ্যেই এখন বিজেপি সরকার। শাহের গলায় তৃপ্তির সুর, ‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ - মানে পুরো বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিই এখন গেরুয়া হয়ে গিয়েছে। পুরোটাই বিজেপির দখলে।’ এই তৃপ্তির পিছনে রয়েছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই বিজেপি বাংলার নির্বাচন লড়েছে বলে অত্যুক্তি হয় না। আর সবচেয়ে বেশি এই তিন রাজ্যেই অনুপ্রবেশ হয়েছে বলে দাবি করত বিজেপি। শাহের কথায়, ‘এ বার সীমান্ত সুরক্ষিত হবে। অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে।’

    শুভেন্দুর প্রশংসাও করলেন শাহ। পাঁচ দশক পরে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেন। আরও স্পষ্ট করে বললে, মহানগর কলকাতার বাইরে জেলার কেউ এই পদে বসেছেন। ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তার পরে ২০২৬-এ শুভেন্দু। এই পর্যায়ে শাহ অবশ্য কিছুটা আক্রমণাত্মক। ঝাঁঝালো সুরে বললেন, ‘ভবানীপুরবাসীকে ধন্যবাদ। আমাদের শুভেন্দু ঘরে ঢুকে হারিয়ে এসেছেন।’ তৃণমূলের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে এও মনে করিয়ে দিলেন, ‘মমতাদিকে আগে নন্দীগ্রামেও হারিয়েছেন শুভেন্দু।’

    এ দিন মূলত দুটো প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘বাংলায় গোরক্ষা হবে আর অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ।’ কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘তৃণমূল আর বিরোধীরা এখন অজুহাত খুঁজছে। কমিশন ভালো কাজ করেনি। ইভিএম খারাপ।’ দুটো ক্ষেত্রেই অবশ্য দরাজ সার্টিফিকেট বিলোলেন শাহ। ধন্যবাদ দিলেন পুলিশকেও। তাঁর কথায়, ‘যা কাজ করেছে প্রশংসার যোগ্য।’ গোপাল কৃষ্ণ গোখলের সেই অমর উক্তি দিয়ে শেষ করলেন শাহ। ‘বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত তা ভাবে আগামী কাল’। শাহের কথায়, ‘এ বার সেই সোনার বাংলা ফিরবে’।

  • Link to this news (এই সময়)