• বিধানসভা থেকে সরল মমতার নামফলক, মহাকরণে তিনতলার কক্ষ প্রস্তুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জন্য! চলছে ব্রিগেডের প্রস্তুতিও
    আনন্দবাজার | ০৯ মে ২০২৬
  • রাজ্যে নতুন সরকারের সদস্যদের শপথগ্রহণের আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। শুক্রবারই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এখন বিধানসভা থেকে মহাকরণ এবং ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড — সর্বত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।

    বিধানসভায় ‘ভোলবদল’

    এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনোঘরে। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আগের দিন তোড়জোড় দেখা গেল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। প্রায় চার বছর পর খোলা হয় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল।শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সরানো হয়েছে নামফলক। বিধানসভা সূত্রে খবর, ওই ঘরটিতে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সচিবালয়ের কর্মীরা।

    একে একে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়েখোলা হয়। বিধানসভা সূত্রে খবর, সোমবার থেকে বিধানসভায়নির্দিষ্ট ঘরে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

    নবান্ন নয়, মহাকরণ

    ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। কিন্তু কিছু দিন আগেও দেখা গিয়েছে, সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। অন্য দিকে, বিজেপি আগেই জানিয়েছিল নবান্ন নয়, তাদের নতুন সরকার কাজ করবে মহাকরণ থেকেই।

    মহাকরণের তিন তলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য একটি কক্ষ তৈরির কাজ চলছে। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্নে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রাইটার্সের দোতলার ঘরে বসতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। অতীতে ওই ঘরেই বসেছেন জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। জানা যাচ্ছে, মহাকরণের ভিভিআইপি ব্লকের তিন তলার একটি অংশের কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। দোতলার যে ঘরে আগের মুখ্যমন্ত্রীরা বসতেন, তিন তলায় ঠিক তার উপরের ঘরটি তৈরি করা হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। পূর্ত দফতরের ঠিকাদার কর্মীরা এখন কাজ করে যাচ্ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার শপথ গ্রহণ শেষে মহাকরণে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিন তলার ঘরটিতে ‘প্রতীকী’ ভাবে বসবেন। বার্তা দেবেন, আগামী পাঁচ বছর সেখান থেকেই পরিচালিত হবে রাজ্যের সরকার। তবে সংস্কারের কাজ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আপাতত বসার ব্যবস্থা হয়েছে বিধানসভায়। সচিবালয় আলাদা করে তৈরি হচ্ছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য বেশ কিছুজিনিস মাথায় রেখে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘরটি রয়েছে, সেখানেই বসবেন শুভেন্দু।

    ব্রিগেডে ব্যস্ততা

    শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দুদের শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাছাড়া বিজেপিশাসিত রাজ্যের বেশ কয়েক জন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তাও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। ব্রিগেড এবং সংলগ্ন ময়দান এলাকায় নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্বয়ং। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি, যুগ্ম সিপি এবং ডিসিরাও থাকবেন।

    নিরাপত্তার খাতিরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কমবেশি ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি হবে একটি ব্লক। শুধু সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার একজন অফিসার। নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। মাঠে প্রথম দিকের কয়েকটি ব্লকে থাকবেন ভিভিআইপি-রা। প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি থাকবেন। ব্রিগেডে আসা প্রত্যেকের চেকিং হবে। ভিভিআইপি এবং নিমন্ত্রিত ছাড়াও কেউ অনুষ্ঠান দেখতেএলেও তাঁকে পরীক্ষানিরীক্ষা করেই তবে ছাড়া হবে। ছাতা, ব্যাগ, জলের বোতল কিছু নিয়ে যাওয়া যাবে না। পুলিশ সূত্রে খবর, কেউ এইসব নিয়ে গেলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তাই ছাতা, ব্যাগ না নিয়ে যাওয়াই ভাল। মাঠ এবং আশপাশে ঘিরে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ব্রিগেডের আশেপাশের বহুতল থেকে নজরদারি চালানো হবে। ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে ড্রোন।

    শনিবার শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালবাহী গাড়ির যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত ছাড় রয়েছে। যেমন এলপিজি সিলিন্ডারবাহী মালগাড়ি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট, অক্সিজেন, শাক-সব্জি, ওষুধপত্র, মাছ, ফল, দুধভর্তি গাড়িচলাচল করতে পারে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পার্শ্বস্থ রাস্তা, যেমন, এজেসি বোস রোডের কিছু অংশ থেকে হেস্টিংস ক্রসিং, ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস্ওয়ে, লাভার্স লেন ইত্যাদি রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী, শনিবার শহরে যান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আনা হতে পারে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)