• শিল্পীদের পরিচয়ে আর কোনও রাজনৈতিক ছাপ পড়বে না, এটাই হবে আগামী দিনের টলিউড: শর্বরী
    আনন্দবাজার | ০৮ মে ২০২৬
  • দীর্ঘ অপেক্ষা। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই। অনেক বছর টলিউড তাঁকে কাজ দেয়নি। অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায় যাদবপুরের মতো ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী। ৯ মে বাংলার আনুষ্ঠানিক শাসনভার এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। স্বাভাবিক ভাবেই দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না শর্বরী।

    শিল্পীদের পরিচয় ইদানীং যেন ‘রাজনৈতিক’ হয়ে গিয়েছিল। বিনোদনদুনিয়ায় কারা ‘তৃণমূল’? তাঁরা কাজ পাবেন! এরকম পরিস্থতি তৈরি হয়েছিল টলিউডে। যে কারণে শর্বরীও দীর্ঘ দিন অভিনয়ের ডাক পাননি। আনন্দবাজার ডট কম প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। বলেছেন, “শিল্পী যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে, সেই ব্যাপারটাই যেন অনেক দিন ধরে হারিয়ে গিয়েছিল। শিল্পীকে প্রশ্ন করা হত, ‘আপনি কি তৃণমূল’?” শর্ববীর আশ্বাস, এই বিষয়টি তিনি দায়িত্ব নিয়ে মুছবেন। তার জন্য নতুন করে লড়াই শুরু করবেন। রাজনীতিবিদ-অভিনেত্রীর দাবি, “শিল্পীর পরিচয়, তিনি একজন শিল্পী। টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, যাত্রা— যে মাধ্যমেরই হোন। তিনি যে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারেন। আগামী দিনে তাঁর সেই মতাদর্শ কখনও তাঁর পরিচয় হয়ে উঠবে না।”

    শর্বরীর আরও আশ্বাস, প্রত্যেক শিল্পী এবং কলাকুশলী আগামী দিনে যাতে কাজ পান, সে দিকটাও দেখবেন তিনি।

    নিত্য লড়াই অবশ্য শর্বরীর অনেক বছরের সঙ্গী। বলেছেন, “আমার লড়াই সার্থক করেছে আমার দল। ধন্যবাদ আমায় ভরসা এবং বিশ্বাস করার জন্য। কৃতজ্ঞ, আমায় সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমায় ঘিরে যে ১২ জন সারাক্ষণ ছিলেন, তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক।” একই সঙ্গে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন যাদবপুরবাসীকে। তাঁর কথায়, “ওঁরা আমার উপরে, দলের উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস রেখেছেন বলেই এই জয়।” এ-ও স্বীকার করেছেন, ধৈর্য বা প্রতীক্ষা সব সময়েই সার্থকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সফল হতে গেলে ধৈর্য ধরতেই হবে।

    অভিনেত্রী শর্বরী টলিউডকে রাজনীতিমুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন। বিজেপির জয়ী প্রার্থী যাদবপুরবাসীকে কী উপহার দেবেন?

    সদ্য বিজয়ী প্রার্থী শর্বরী বলেছেন, “আমার মা-বাবা নেই। যাদবপুর কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি, এলাকা বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে! সন্তানরা তাঁদের বর্ষীয়ান অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। আমি মা-বাবাদের আর পরিবারহারা হয়ে থাকতে দেব না।” একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল, বাজার, নিকাশি এবং পানীয় জলের উন্নতি ঘটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন। শর্বরীর কথায়, “আজ আশ্বাস দিয়ে দু’বছর পরে কাজ শুরু করব, এরকম নয়। আমি জিতে ফেরার পর থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)