• বাধানিষেধমুক্ত বাংলা ছবির প্রযোজকেরা, ঘোষণা ইমপা চেয়ারম্যানের! খুশি বাংলা বিনোদনদুনিয়া?
    আনন্দবাজার | ০৮ মে ২০২৬
  • গত ২০ বছর ধরে প্রযোজকদের উপরে নানা বাধা, নানা বিধি। সেই বাধানিষেধ উঠতে চলেছে। ইমপা অফিসে দাঁড়িয়ে এই বার্তা দিয়েছেন প্রযোজক বিভাগের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচাৰ্য।

    তিনি ঘোষণা করেছেন, “প্রযোজকদের উপরে আর কোনও বাধা থাকছে না। আগামী দিনে প্রযোজকেরা স্বাধীন ভাবে ছবি বানাতে পারবেন। নিজেদের পছন্দমতো ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন।” এত দিন ফেডারেশনের ঠিক করে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক কলাকুশলী নিতে বাধ্য ছিলেন প্রযোজক। অনেক সময় পছন্দের পরিচালক, অভিনেতাদেরও নাকি নিতে পারতেন না তাঁরা। ঋতব্রতের আশ্বাস, এই বিধিনিষেধও উঠে যাচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, বাংলা বিনোদনদুনিয়ার প্রযোজকদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, বাজেট কম থাকলেও তাঁদের প্রয়োজনের বেশি কলাকুশলীকে নিতে বাধ্য করা হত। এতে অনেকেই ছবি বানানো থেকে পিছিয়ে এসেছেন। অনেকে গোপনে কমসংখ্যক কলাকুশলী নিয়ে শুট করেছেন। শুটিংয়ের এই পদ্ধতিই 'গুপি শুট' বলে পরিচিত ইন্ডাস্ট্রিতে।

    অবশেষে স্বস্তি এল? এত দিন এই চাহিদাটাই তো ছিল প্রযোজক-পরিচালকদের। সবাই খুশি? সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল প্রযোজক অশোক ধনুকা, ফিরদৌসল হাসান, পরিচালক বিদুলা ভট্টাচাৰ্য, জয়ব্রত দাস এবং স্বয়ং ঋতব্রতের সঙ্গে।

    প্রযোজকদের এই চাওয়া অনেক দিনের। ইমপা-র প্রযোজক বিভাগ এত পরে কেন এই ধরনের ঘোষণা করল? প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। ঋতব্রত বলেন, “সংগঠনও প্রযোজকদের পক্ষেই ছিল। কেন বলা যাচ্ছিল না, সে কথাও সবাই জানেন। এখন সময় এসেছে বলার।” তাঁর মতে, এতে বেশি উপকৃত হবেন স্বাধীন পরিচালকেরা। ফিরদৌসল ইমপা-র অন্যতম প্রযোজক সদস্য। তিনি কী বলছেন? প্রযোজক জানিয়েছেন, তিনি কলকাতার বাইরে। ফলে সবিস্তার কিছুই জানেন না। তার পরেও তাঁর বক্তব্য, “এরকম সত্যিই যদি কিছু হয়, তা হলে খুশি হব। কারণ, মন খুলে কাজ করতে চান সবাই। স্বাধীনতা পেলে কাজ ভাল হবে।”

    একই কথা অশোক ধনুকারও। তিনি বলেছেন, “এটাই হওয়ার ছিল। যদিও লিখিত এখনও কিছু পাইনি আমরা। ২০১৮-য় এই দাবি জানিয়ে আমিই প্রথম আদালতে মামলা করি। সে দিন পাশে কাউকে পাইনি।” একই সুর ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর পরিচালক জয়ব্রতের। ছবিমুক্তি ঘটাতে গিয়ে অনেক খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সে কথা তুলে জয়ব্রত বললেন, “ছবিমুক্তির আগে আমাকে জানানো হয়েছিল, ফেডারেশনের নিয়ম মেনে ছবি বানাতে পারলে তবেই যেন পরিচালনায় আসি। কথাটা শুনে খুবই ভয় পেয়েছিলাম।” এখন আশার আলো দেখছেন তিনি। ছবি পরিচালনাও করবেন বলে জানিয়েছেন।

    ২০২৪ থেকে পরিচালক-ফেডারেশন কাজিয়া তুঙ্গে। ২০২৫-এ যে মহিলা পরিচালক একাই ফেডারেশনের ‘একুশে আইন’-এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন, তিনি বিদুলা ভট্টাচার্য। তিনি কতটা খুশি? বিদুলার সাফ জবাব, “বরাবর বলেছি, ফেডারেশনের অন্যায় নিয়ম মানি না। আমি আমার শর্তে কাজ করব। কেউ আটকাতে পারবেন না। সেটাই করে চলেছি। যা ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা বাস্তব হলে সত্যিই যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।”

    ঋতব্রতের ঘোষণাকে নৈতিক জয় বলে মনে করছেন হলমালিক এবং পরিবেশক শতদীপ সাহা। তাঁর কথায়, “মাত্র দু'দিনের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ। আরও আগে এই প্রতিবাদ হলে বাংলা বিনোদনদুনিয়া আরও আগেই দুর্নীতিমুক্ত হত।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)