ভারত কি তবে প্রবেশ করল অগ্নি-৬ যুগে? এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সেনার হাতে যে সবথেকে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইলটি রয়েছে, সেটি হলো অগ্নি-৫। তবে, অগ্নি সিরিজ়ের পরবর্তী ICBM, অগ্নি-৬-ও পরীক্ষার জন্য তৈরি। শুক্রবার বিকেলেই কি ঘটল সেই পরীক্ষা? সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সেই চর্চাই চলছে।
আসলে এ দিন ওড়িশা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আকাশে দেখা গিয়েছে অদ্ভুত আলোর খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এর ছবি ও ভিডিয়ো। সেই সব ছবি-ভিডিয়ো-র ভিত্তিতেই নেটিজ়েনদের একাংশের দাবি, এটি নিশ্চয়ই অগ্নি-৬ মিসাইলের পরীক্ষার দৃশ্য।
এ দিন ওডিশার চাঁদিপুর উপকূলবর্তী এলাকায় বহু মানুষ জানিয়েছেন, একটি মিসাইল পরীক্ষা করেছে ভারত। যার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল বঙ্গোপসাগরের আকাশ। তবে, অন্যান্য মিসাইল যেমন মহাকাশযানের মতো একটি সরলরৈখিক পথে উড়ে যেতে দেখা যায়, এই ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি।
মিসাইলটির গতিপথ ছিল অত্যন্ত আঁকাবাঁকা। মিসাইলটির পিছনে যে আলো ও ধোঁয়ার ট্রেইল দেখা গিয়েছে, তা ছিল একেবারেই আঁকাবাঁকা। দেখে মনে হতে পারে, আকাশের ক্যানভাসে বোধহয় তুলি বুলিয়ে দিয়েছেন কোনও চিত্রশিল্পী। এক নেটিজ়েন তো কাব্যি করে লিখেছেন, ‘আঁকাবাঁকা অক্ষরে কবিতা লিখছে মৃত্যু’।
এই ধরনের মিসাইল এর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া বা ইরানকে ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। সাধারণত ‘Maneuverable Reentry Vehicle’ বা ‘MaRV’ প্রযুক্তির মিসাইলগুলির ক্ষেত্রে এই রকম আঁকাবাঁকা পথ দেখা যায়। এই ধরনের মিসাইলগুলির ওয়ারহেডে ছোট ছোট পাখনা (fins) বা থ্রাস্টার থাকে। এর সাহায্যে এরা লক্ষ্যে আঘাত করার ঠিক আগে নিজেদের গতিপথ দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে, যাতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তাদের ট্র্যাক করতে না পারে।
৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ‘নোটাম’ জারি করেছে ভারত। অর্থাৎ, আকাশসীমা বন্ধ। ৭ মে ওডিশা উপকূল থেকে ‘TARA’ অর্থাৎ, ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেনটেশন’ মিসাইলের পরীক্ষা করেছিল DRDO। এ দিন কোন ধরনের মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়েছে, তা এখনও জানায়নি DRDO বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
তবে এর আগে ২ মে DRDO জানিয়েছিল, অগ্নি-৬ মিসাইল পরীক্ষার জন্য একেবারে তৈরি, যার পাল্লা ১০ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার। তাই নেটিজ়েনদের অধিকাংশ মনে করছেন, এটি অগ্নি-৬ মিসাইলেরই পরীক্ষা ছিল। আবার অনেকে বলছেন, অগ্নি-৫ মিসাইলেরই একটি উন্নত সংস্করণ, যাতে গ্লাইড করার ক্ষমতা রয়েছে। আদতে এটি কোন মিসাইলের পরীক্ষা হলো, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরকারের বিবৃতির জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।