মত্ত অবস্থায় জলের ট্যাঙ্কের মাথায় উঠে পড়েছেন বীরু। মদের বোতল হাতে নিয়ে বসন্তীকে বিয়ে করার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছেন। বসন্তীকে বিয়ে না করতে দেওয়া হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ১৯৭৫ সালের ‘শোলে’ সিনেমার সেই মনোরম দৃশ্য আজ সকলের মনে গেঁথে রয়েছে। খানিকটা সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হুগলির উত্তরপাড়া। জমানা বদলেছে। এ ক্ষেত্রে দুই যুগলের মধ্যে দূরত্বের বিরহ নেই। ‘বীরু’ আর ‘বাসন্তী’ একসঙ্গে মদ্যপান করেই উঠে পড়লেন ছাদের উপরে জলের ট্যাঙ্কে। শুক্রবার সকালে তাঁদেরকে সেখান থেকে নামানোর জন্য কালঘাম ছুটল এলাকাবাসীর।
এ দিন উত্তরপাড়ার ঘড়িবারিতে রাজবাড়ি আবাসনের বাসিন্দারা দেখতে পান যুগল আবাসনের ছাদের জলের ট্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে বসে আছে। কথাবার্তা বলে বোঝা যায়, তাঁরা আকণ্ঠ মদ্যপান করে রয়েছেন। স্থিতাবস্থা নেই দু’জনেরই। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। দু’জনকেই সেখান নেমে আসার কথা বলা হয়। প্রথমে যুবক নেমে আসলেও যুবতী নাছোড়বান্দা। তিনি ট্যাঙ্কের মাথাতেই আরও কিছুক্ষণ বসেছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ বাদে একটি বাঁশের সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান ছাদের উপরে।
ওই আবাসনের বাসিন্দারা জানান, মদের বোতল নিয়ে জলের ট্যাঙ্কে চড়েছিল যুগল। যুবতী একটু বেশি মদ্যপ থাকায় নামতে গিয়ে পড়ে যান। জলের ট্যাঙ্কের ভিতর নেমে জল নোংরা করা হয় বলেও অভিযোগ। সেই জল ফেলে দিয়ে আবার ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা হয়। জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার জন্য একটি বাঁশের মই তৈরি করা হয়েছিল। সেই মই দিয়ে ট্যাঙ্কের ছাদে উঠে পরে ওই যুগল।
গোটা ঘটনা নিয়ে হইচই পড়ে যায় ওই আবাসন চত্বরে। ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। দু’জনকে নীচে নামিয়ে আনার পরে সকলে হাফ ছেড়ে বাঁচেন। এক আবাসিক বলেন, ‘জলের ট্যাঙ্কের মাথায় উঠে মদ্যপান করে এই পাগলামি করার কী মানে? বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। মেয়েটি সামান্য আঘাত পেয়েছে। দু’জনকেই এরকম না করার জন্য কড়া ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে।’