হিমাংশু মাজি (শুভেন্দুর শিক্ষক)
শিক্ষক হিসেবে শুভেন্দুর সাফল্যে আমি খুব খুশি। একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিল শুভেন্দু। কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজে আমি ছিলাম ওদের ক্লাস টিচার। ক্লাসে পড়ার পাশাপাশি আমার কাছে টিউশনও নিত। বরাবরই ও খুব পরিশ্রমী। শুভেন্দু ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক বিভাগের সম্পাদক হয়েছিল। সে সময়ে ওকে সহযোগিতা করেছি। আমাদের মধ্যে ছাত্র–শিক্ষকের সম্পর্ক এখনও বজায় আছে।
শুভেন্দু আমাকে প্রচণ্ড সম্মান করে। পুরভোটের সময়ে পাড়ায় প্রচারে এসে আমাদের বাড়িতেও এসেছিল। ঢুকেই প্রণাম করেছিল। কেমন আছি, জানতে চেয়েছিল। ওর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গেও আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তিনি তখন কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান। প্রতিদিন বাড়ি থেকে রিকশায় চেপে পুরসভায় আসতেন। রাস্তায় আমাকে দেখলেই রিকশায় তুলে নিতেন।
শুভেন্দু যখন একাদশ শ্রেণির ছাত্র তখন ওর পড়াশোনা নিয়ে শিশিরবাবুকে দু'–একবার অভিযোগ জানিয়েছি। ছাত্র রাজনীতি আমার কোনও দিনই পছন্দ নয়। এক জন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের সব সময়ে বলতাম, আগে ভালো ভাবে পড়াশোনা করো। নিজেকে যোগ্য করে তোলো। আমার ছাত্র এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
আনন্দের পাশাপাশি খুব গর্বও হচ্ছে। আমার বাড়ির পাশে কয়েক জন বিজেপি সমর্থকের বাড়ি। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জেতার পরে ওরা ভবতারিণী মন্দিরে পুজোর জন্যে ফুল তুলতে এসেছিল। আমি বলেছিলাম, সব ফুল তুলে নিয়ে যাও। একটা প্রান্তিক জেলার এক জন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী আছে!