এই সময়: লক্ষ্য ছিল ছাত্রীদের ড্রপআউট ঠেকানো, লক্ষ্য ছিল নাবালিকাদের বিয়ে রুখে ক্লাসরুমে ধরে রাখা। আর সেই লক্ষ্যে তৈরি বাংলার প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’ পেয়েছিল ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’।
তার পরে একে একে শিক্ষাক্ষেত্রের জন্যে চালু হয় সবুজ সাথী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প। এর বাইরে উচ্চশিক্ষায় রয়েছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। এ ছাড়াও যুবসাথী, যুবশ্রী, খাদ্যসাথী, সবুজশ্রী-সহ গত ১৫ বছরে এক গুচ্ছ প্রকল্প চালু করেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। আজ, শনিবার নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে সেই প্রকল্পগুলি কোন পথে চলবে —আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বস্তরে। রাজ্যের অভিজ্ঞ আমলাদের একাংশের মত, প্রকল্পগুলি হয়তো বন্ধ হবে না। তবে সেগুলির নাম পরিবর্তন হতে পারে। আজ নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সেই সিদ্ধান্ত হতে পারে।
রূপশ্রী প্রকল্পে মেয়েদের বিয়ের জন্যে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেয় সরকার। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্যে রয়েছে ‘সামাজিক সুরক্ষা যোজনা’। এ ছাড়া আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়াদের অন্ত্যেষ্টির জন্য আর্থিক সহায়তায় চালু হয়েছিল ‘সমব্যাথী’ প্রকল্প।
শিক্ষা ও যুবকল্যাণ বিভাগ থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাইকেল দেওয়া হয় ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পে। মাধ্যমিক পাশ করার পরে অনলাইন শিক্ষার জন্যে দেওয়া হয় ট্যাব। তফসিলি জাতি ও উপজাতি পড়ুয়াদের জন্যে রয়েছে শিক্ষাশ্রী। তফসিলি জাতি ও জনজাতি পড়ুয়াদের প্রাক-পরীক্ষা প্রশিক্ষণের জন্যে ‘যোগশ্রী’ প্রকল্পও চালু করা হয়েছিল।
বিনামূল্যে রেশন বিলির যে প্রকল্প, তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘খাদ্যসাথী’। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও বিমার জন্য ‘কৃষক বন্ধু’ এবং কৃষকদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিতে ‘সুফল বাংলা’ সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল। অন্য আরও প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দরিদ্রদের জন্যে আবাসন প্রকল্প ‘গীতাঞ্জলি’।
নতুন ব্যবসা শুরুর জন্যে ঋণের সুবিধা দিতে ‘ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প’ও চালু করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কিছু প্রকল্পের নাম রাজ্য বদলে খাদ্যসাথী, জলজীবন মিশন, বাংলার বাড়ি করে দিয়েছে বলে বিজেপি বার বারই অবশ্য অভিযোগ করে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ বন্ধ করার পরে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে ‘কর্মশ্রী’ এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প রাজ্য নিজের অর্থেই চালাচ্ছিল। আমলারা বলছেন, সেই সমস্যা অচিরেই মিটবে।