এই সময়: রাজ্যে পালাবদলের দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করায় অনুমোদন দেওয়া হবে। ‘সংকল্প পত্রে’-ও সেই কথা বলা ছিল। তবে হিসেবমতো, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এখনও, অর্থাৎ মন্ত্রিসভার নতুন কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু কলকাতা ও শহরতলি–সহ রাজ্যের বেশ কিছু জায়গা থেকে গত দু’ দিন ধরে অভিযোগ আসছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা মিলছে না।
স্বাস্থ্যসাথীতে যাঁরা অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের মধ্যে অনেক রোগী ও তাঁদের পরিবার বিপাকে পড়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসাথী পোর্টালও ঠিক মতো কাজ করেনি বলে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, স্বাস্থ্যসাথীর হেল্পলাইন নম্বর ভেসে যাচ্ছে দু’রকম ফোনের বন্যায়। রোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা ক্যাশলেস পরিষেবা পাচ্ছেন না। আবার বহু বেসরকারি হাসপাতাল–নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষেরও প্রশ্ন— এখনও চালিয়ে যাবেন কি না স্বাস্থ্যসাথী। কারণ, লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে সরকারের থেকে। এর পরেও যদি টাকা না–মেলে, তখন আর্থিক লোকসানের মুখ দেখতে হবে।
এই জাঁতাকলে ঘোর সমস্যায় রোগীকুল। যেমন হাওড়ার আমতার বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নের মহিলার উলুবেড়িয়ার একটি নার্সিংহোমে ইউটেরাসে সার্জারির দিন ছিল বুধবার। প্রস্তাবিত খরচ ছিল ৩৫ হাজার টাকা। যার মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ১৭-১৮ হাজার টাকা।
পরিবারের দাবি, নার্সিংহোম পুরো টাকা চেয়েছে অপারেশনের জন্য। একই ছবি দেখা গিয়েছে একটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠীর আন্দুলের হাসপাতালে। সেখানে ডায়ালিসিস রোগীরা প্রবল সমস্যায় পড়েছেন। কারণ, স্বাস্থ্যসাথীতে আর পরিষেবা মিলছে না। একই ছবি কলকাতায় ওই গোষ্ঠীর মুকুন্দপুরের হাসপাতালেও। আবার আনন্দপুরের একটি হাসপাতালে শুধুমাত্র ক্যান্সারের চিকিৎসা, বিশেষত রেডিয়েশন থেরাপি ছাড়া অন্যান্য পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসায় মিলছে না স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা।
যদিও হাওড়া ও হুগলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক যথাক্রমে কিশলয় দত্ত ও মৃগাঙ্কমৌলী কর জানান, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ এলে তাঁরা নিশ্চিত ব্যবস্থা নেবেন। স্বাস্থ্যভবন থেকে শুরু করে ক্লিনিক্যাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের কর্তারাও সাফ জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হওয়ার কোনও আদেশনামা জারি হয়নি এখনও। যত দিন না সেই আদেশনামা জারি হয় এবং এই প্রকল্পের বদলে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর হয়, ততদিন প্রত্যেক হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথীর যাবতীয় পরিষেবা দিতে বাধ্য থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তথা বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের মন্তব্য, ‘আমরা সতর্ক রয়েছি, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলেও যেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডহোল্ডাররা চালু পরিষেবার সমস্ত সুযোগ পান, কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত যেন কেউ না হন। যতদিন না তা হচ্ছে, বর্তমান প্রকল্পের সব সুবিধাই সকলের পাওয়ার কথা।’ কলকাতার বহু বেসরকারি হাসপাতাল অবশ্য স্বাস্থ্যসাথীতে পরিষেবা দিচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে ইএম বাইপাস লাগোয়া অনেকগুলি হাসপাতালও।
ব্যতিক্রমী হিসেবে পঞ্চসায়রের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে এখনও কোনও সরকারি আদেশনামা আমরা পাইনি। যদি না পাই বা যতদিন না পাচ্ছি, ততদিন এখনকার মতোই চালু থাকবে স্বাস্থ্যসাথী।’ নিউ আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, স্বাস্থ্যসাথী যেহেতু রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্প এবং যেহেতু তাঁদের কাছে সরকারের তরফে এটা না নেওয়ার কোনও নির্দেশিকা আসেনি, তাই আগের নির্দেশ অনুসারে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা হচ্ছে এখানে। সল্টলেক, আলিপুর, একবালপুর ও বাইপাস লাগোয়া বেশ কয়েকটি হাসপাতালেও পরিষেবা মিলছে বলে জানা গিয়েছে।