• সীমান্ত হোক বা সড়ক সম্প্রসারণ, নতুন সরকারে কাটবে জমি-জট?
    এই সময় | ০৯ মে ২০২৬
  • অমিত চক্রবর্তী

    বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ–সহ সম্ভাব্য নানা প্রকল্প নিয়ে উচ্চাশার পারদ চড়ছে। তারই মধ্যে সরকারি প্রকল্পে জমি দিলে এ বার প্রকৃত দাম পাওয়া যাবে বলে একদল মানুষ আশায় বুক বাঁধছেন। যে কোনও সরকারি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ২০১৩–র নতুন আইনই মানে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সেই আইনে গ্রামাঞ্চলে জমি দিলে বাজারদরের থেকে চার গুণ এবং শহরাঞ্চলে বাজারদরের থেকে দ্বিগুণ দাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন–সহ আরও বহু সুযোগ–সুবিধা রয়েছে। এতদিন তৃণমূল সরকার সেই আইন চালুই করেনি রাজ্যে। উল্টে সরকারি প্রকল্পে জমি নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থার মতো বাজার থেকে কিনে নেওয়ার বিধি তৈরি হয়েছিল। বহু জমি–মালিকই ওই শর্তে জমি দিতে অস্বীকার করায় রেল–সহ বহু প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর আটকে রয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে কেন্দ্রীয় আইন এ রাজ্যেও বলবৎ করবে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন জমি–মালিকরা।

    এ রাজ্যে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের বহু এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি। যা নিয়ে মামলাও চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। এরও সবচেয়ে বড় কারণ জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমিদাতাদের মনমতো দাম না পাওয়া। ফলে নিরাপত্তার বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে সীমান্তে। আবার বারাসত থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে ২০১০–এ শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ। কিন্তু এতদিনেও আমডাঙার মতো বহু এলাকায় জমি অধিগ্রহণ শেষই হয়নি। কারণ সেই এক, জমি দিলেও পছন্দের দাম না পাওয়া। এই প্রকল্পে দেওয়া জমির জন্য এখনও অনেকে টাকা না পেয়ে মামলা পর্যন্ত করেছেন। গত বছর ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী রাজ্যসভায় এক রিপোর্ট দিয়ে জানান, বাংলায় রেলের ১২টি প্রকল্প আটকে রয়েছে শুধুমাত্র রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ না করায়। আটকে রয়েছে মেট্রোর প্রায় ২০ কিলেমিটার সম্প্রসারণও।

    দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের অসম সীমানা পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বহু জায়গায় সম্প্রসারণের কাজও আটকে গত প্রায় দু'দশক ধরে। একই অবস্থা বাঁকুড়া–পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডমুখী রাস্তারও। শিলিগুড়ি থেকে অসম পর্যন্ত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক চার লেনের করার জন্য এক দশক আগে জমি অধিগ্রহণ শুরু হয় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। আলিপুরদুয়ারের বহু জমি–মালিক জমি দেওয়ার জন্য ২০১৩–র আইনে দাম দাবি করেন। কিন্তু জমি দিয়েও সেই দাম না পেয়ে কয়েক হাজার জমিদাতা এখন মামলা চালাচ্ছেন। সেই জমিদাতাদের সংগঠন কৃষি–বাস্তু জমি সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক রতন রায়ের কথায়, 'বাপ–ঠাকুরদার রেখে যাওয়া জমি সরকারি কাজে দিয়ে এ রাজ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা নতুন আইনে দাম চাইলেও রাজ্য সরকার তা মানেনি। নতুন বিজেপি সরকার আসায় এ বার আশা জাগছে।

    এমন জমিদাতাদের হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী অরিন্দম দাসের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন আইন আনার একটা বড় কারণ ছিল মানুষের কাছে জমি একটা সেন্টিমেন্ট। তাই তাঁদের এমন দাম ও সুযোগ–সুবিধা তার বিনিময়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়, যাতে কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। না–হলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এমন প্রকল্প আটকে যাচ্ছিল।

    তিনি এই প্রসঙ্গেই উদাহরণ দেন ওডিশার। অরিন্দম বলেন, 'পুরীর মন্দির এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং বিমানবন্দর–সহ শহরের রূপ ফেরাতে সেখানকার নতুন সরকার শুধু ২০১৩–র আইনই বলবৎ করেনি, জমি পাওয়ার জন্য নতুন প্যাকেজে আরও সুযোগ–সুবিধা দিয়েছে।' বাংলাতেও নয়া সরকারের আমলে জমি–জট কাটবে বলে আশা তঁার।

  • Link to this news (এই সময়)