• কেন ৫৭ বছর বয়সেও অবিবাহিত? যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন শুভেন্দু
    আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অবিবাহিত। ৫৭ বছর বয়সী শুভেন্দু কি একাই কাটাবেন জীবন? বিয়ে করবেন না? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন বহুবার। আজ থেকে প্রায় ছ'বছর আগের কথা। হলদিয়ায় জনসভা করছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সে সময় তিনি নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। ভরা সভায় বলেছিলেন, “অনেকে জিজ্ঞেস করে, শুভেন্দু, আপনি এখনও অবিবাহিত কেন? আপনার ভাইদের তো বিয়ে হয়ে গেছে।” শুভেন্দুর এই কথায় পুরো জনসমাগম হতবাক হয়ে যায়। নিজের গোপন কথা ফাঁস করতে চাইছিলেন?

    আজ শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শিখরে পৌঁছতে চলেছেন। সকাল ১১টায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু নিজেকে 'জায়ান্ট কিলার' হিসেবে প্রমাণ করেছেন। শনিবার তিনি যখন শপথ গ্রহণ করবেন, তখন শুধু তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তুমুল আলোচনা শুরু হবে।

    তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে, ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, আপনার কী খবর?
    প্রশ্ন হল, ৫৫ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারী এখনও বিয়ে করেননি কেন? ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এক জনসভায় তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করেন। আজ তক বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলদিয়ার সেই জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় শুভেন্দু বলেন, "অনেকে জিজ্ঞেস করেন, আজকের রাজনীতিবিদদের চোখে আমি অবিবাহিত নই। শুভেন্দুর পরিবার ছোট পরিবার নয়, পাঁচ, সাত বা আট সদস্যেরও নয়। শুভেন্দুর পরিবার একটি বাঙালি পরিবার। সমাজের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে হয়, আমার আদর্শ সতীশ সামন্ত ও সুশীল ধারা এটাই বলতেন। তাঁদের পথ অনুসরণ করে আমি অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

    শুভেন্দু অধিকারী বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে মন খারাপ করেছিলেন তাঁর বাবা
    শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী, শুভেন্দুর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে মন খারাপ করেছিলেন। শুভেন্দুর বাবা একটি সাক্ষাৎকারে পুরো ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, "আমি ওকে রাগে বকা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার খারাপ লেগেছিল। আমি কিছু বলিনি। আমি ওকে মারিনি, কিন্তু খুব বকা দিয়েছি। এই সম্মান আর খ্যাতি কোথায় যাবে, এই টাকা কোথায় যাবে? গ্রামের লোকেরা মনে করে যে জীবন ভালো হলে সংসার জীবন থাকবে। এটা ভাবা স্বাভাবিক যে ছেলেমেয়ের বিয়ে হলে তার নিজের জগৎ আর পরিবার থাকবে।"

    তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও শুভেন্দু অধিকারী একটি টিভি সাক্ষাৎকারে তাঁর অবিবাহিত থাকার কারণ জানিয়েছিলেন।

    তিনি বলেছিলেন, "আমি ১৯৮৭ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ধীরে ধীরে আমি রাজনীতিতে পুরোপুরি নিবেদিত হয়ে পড়ি। এলাকায় তিনজন স্বাধীনতা সংগ্রামী আছেন: সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা এবং অজয় ​​মুখোপাধ্যায়। তিনজনই ছিলেন অসাধারণ স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনজনই ছিলেন অবিবাহিত। আমি এই তিনজনকে অনুসরণ করছি এবং অবিবাহিত থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।"

    তিনি আরও বলেন, "এখন আমি মনস্থির করেছি আমি আমার সময় জনগণকে দেব। অবিবাহিত থাকাটা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। আমি কাজ করার জন্য অনেক সময় পাই। এর পিছনে তেমন কোনও দায়িত্ব নেই। আমার বাবা-মা আছেন, তাঁরা যেন সুস্থ, ভালো ও সুখী থাকেন, তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। পরিবারের কোনও সদস্যকে রাজনীতিতে আনা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা একটি কুফল, তাই আমি এতে ঠিক আছি।"
     
  • Link to this news (আজ তক)